ঋণ সুপারিশে কৃষিপণ্য ও খাদ্যতে গুরুত্বারোপ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল থেকে ছয় মাস বা এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পাঁচ বছর মেয়াদে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। একই সঙ্গে এ ঋণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উদ্যোক্তাসহ অন্যান্য অপ্রচলিত খাতের উদ্যোক্তাদের বিবেচনার সুপরিশ করা হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বিতরণে এসব সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে সুপারিশমালা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। এরই মধ্যে এ সুপারিশমালা প্রস্তাবনা আকারে শিল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিসিক থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিসিকের ১৬ দফা সুপারিশমালা হচ্ছে-

>> কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ এর সংজ্ঞা অনুসরণ করা যেতে পারে।

>> জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ এ উল্লিখিত উচ্চ অগ্রাধিকার, অগ্রাধিকার, সেবা এবং কৃষিভিত্তিক কর্মকান্ড, কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উদ্যোক্তাসহ অন্যান্য অপ্রচলিত খাতের উদ্যোক্তাদের বিবেচনায় আনা যেতে পারে।

>> ঋণ প্রদানের জন্য একটি সহজবোধ্য গাইডলাইন প্রণয়ন করা যেতে পারে।

>> কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তাদের সহায়ক জামানতের পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং গ্রুপ গ্যারান্টিকে জামানত হিসাবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জামানত ব্যতিরেকে সহজ শর্তে শুধুমাত্র একটি ইউনিফর্ম আবেদনের মাধ্যমে এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

>> নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

>> ছয় মাস বা এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পাঁচ বছর মেয়াদে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

>> বিদ্যমান ঋণ গ্রহিতা উদ্যোক্তাদের তাদের স্ব স্ব ব্যাংক থেকে বর্তমান ঋণ সুবিধার পাশাপাশি এই প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

>> বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ জারিকৃত কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (সিএমএসএমই) অর্থায়ন সংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলারের আলোকে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ ঋণের সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

>> আলোচ্য ঋণ প্রণোদনা প্যাকেজটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (সিএমএসএমই) অর্থায়ন সংক্রান্ত মাস্টার সার্কুলারে উল্লিখিত স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আলোকে কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

>> ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এবং মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ঋণ বিতরণ করা যেতে পারে।

>> যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান সরকারের বিধিবিধানের মধ্যে থেকে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে তাদের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বিসিক, পিকেএসএফ, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, সমবায় অধিদফতর, এসএমই ফাউন্ডেশন, এসডিএফ এবং যুব উন্নয়ন অধিদফতরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

>> বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত শিল্প ইউনিটসমূহ, লবণ চাষি এবং লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ মিলসমূহ, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ, জামদানি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ, মৌ-চাষিগণ, হালকা প্রকৌশল শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্লাস্টিক শিল্প প্রতিষ্ঠান, মুদ্রণ শিল্প প্রতিষ্ঠান, সাব-কন্ট্রাকটিং তালিকাভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং বিসিক কর্তৃক নিবন্ধিত বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি লাঘবে বিসিক ও শিল্প মালিক সমিতির যৌথ সুপারিশের ভিত্তিতে প্রণোদনা প্যাকেজ অনুযায়ী এসব শিল্পের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।

>> বিসিক শিল্পনগরী বহির্ভূত দেশের বিভিন্ন বিভাগ/জেলা/উপজেলায় স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জেলা প্রশাসন, বিসিক, নাসিব, অ্যাসোসিয়েশন/চেম্বারের যৌথ তালিকা ও সুপারিশের ভিত্তিতে উদ্যোক্তাদের ঋণ সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।

>> প্রতিটি জেলার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের (সরকারি ও বেসরকারি) মধ্য থেকে একটি ব্যাংককে এসএমই লিড ব্যাংক হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে এসএমই ঋণ পরিকল্পনার বিষয়ে নির্ধারিত জেলার ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয় সাধনের জন্য লিড ব্যাংক কনসোর্টিয়াসম লিডার হিসেবে কাজ করবে।

>> বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই, নাসিব, এসএমই ফাউন্ডেশনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বারের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে একটি যাচাই-বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

>> জেলা পর্যায়ে ঋণ বিতরণের কার্যক্রম তদারকির জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সব ব্যাংকের জেলা প্রধান, বিসিক, নাসিব, জেলা চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

 

"