করোনায় আক্রান্ত ৬৫ পুলিশ সদস্য

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনার এই সময়কালে চিকিৎসকদের পরই ফ্রন্টলাইনে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। দায়িত্ব পালনকালে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে পুলিশের ৬৫ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সংক্রমণ ঠেকাতে শুধু লাঠি হাতেই নয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কখনো কখনো পলায়নকৃত করোনা রোগীকে ধরে আনা, করোনা আক্রান্তের বাসা, ভবন ও এলাকা লকডাউন করা, ত্রাণ বিতরণসহ নানা কাজে জড়িয়েছে পুলিশ। আর এসব করতে গিয়েই সংক্রমিত হচ্ছেন তারা। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে, আক্রান্ত ৬৫ জনের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন ২৯ জন। সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় ৬ শতাধিক পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও বিভিন্ন ইউনিটে নিয়োজিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা রোগীর সবচেয়ে বেশি কাছে থাকা বা সংস্পর্শে থাকতে হয় চিকিৎসকদের। তারপরই স্বাস্থ্যকর্মী ও পুলিশ। পুলিশের সুরক্ষার বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করা যায়নি। আবার দায়িত্ব পালনের সময় ‘অসাবধানতাবশত’ সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে এসেও অনেক পুলিশ সদস্য সংক্রমিত হয়েছেন ও ঝুঁকি বাড়িয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

পুলিশ সদর দফতরের করোনা সেলের প্রস্তুতকৃত সর্বশেষ তথ্য মতে, পুলিশের আক্রান্ত ৬৫ জনের মধ্যে ২৯ জন ডিএমপিতে, এর মধ্যে সিভিল স্টাফ রয়েছেন। পূর্বে আক্রান্ত ছিলেন ২৬ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরো তিনজন। ঢাকা রেঞ্জ অফিসে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন একজন, পুলিশের টিঅ্যান্ডআইএমে একজন, সিএমপিতে দুজন (নতুন আক্রান্ত একজন)। গাজীপুর মহানগর পুলিশে আগে একজনসহ নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) দুজন, ময়মনসিংহে একজন, নৌ পুলিশে একজন, অ্যান্টি-টেররিজম ইউনিটে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন একজন, নারায়ণগঞ্জে আগের তিনজনের সঙ্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন।

গাজীপুর, নরসিংদী ও শেরপুরে নতুন একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জে ১১ জন।

এই মুহূর্তে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬২৬ জন এবং এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪৩ জন। আইসোলেশনে রয়েছেন ৯ জন।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দুই থানার সব পুলিশ সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা আক্রান্ত হওয়ার পর ২২ কর্মকর্তাকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। গুলশান উপকমিশনারের কার্যালয়ে এক সাধারণ কর্মচারী আক্রান্ত হলে ছয় কর্মকর্তা কোয়ারেন্টাইনে গেছেন।

রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাকে ও পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিওএম) দুই সদস্য আক্রান্তের পর তাদের পাশে থাকা সদস্যদেরও আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইনস ব্যারাকে একজন আক্রান্ত হওয়ার পর ব্যারাকে থাকা ২০০ পুলিশ সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে যাওয়া এক পুলিশ সদস্যের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পর্যন্ত আক্রান্ত ছিলেন ২৬ জন। গতকাল তা বেড়ে আরো তিন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্তরা সবাই বাইরে দায়িত্ব পালনে গিয়েছিলেন। অসাবধানতাবশত মানুষের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় তারা সংক্রমিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন, পুলিশ হাসপাতালে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে করোনার জন্য আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আরো উন্নত চিকিৎসা কিংবা অবজারভেশনের দরকার হয় বা কোনো কারণে সম্ভব না হয় তাহলে পুলিশ হাসপাতালে যোগাযোগ করে করোনার যে স্পেশালাইজড হাসপাতাল রয়েছে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। আর পুলিশ ব্যারাকগুলোর প্রতিটা ফ্লোর বা যেখানে যেখানে করোনার জীবাণু থাকতে পারে সেগুলো প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক দ্বারা ধৌত করা হচ্ছে। যারা ডিউটিতে যাচ্ছেন তাদের আলাদাভাবে হাতধোয়ার সরঞ্জাম ও মাস্ক, পিপিই সরবরাহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন তারা নিজেরা যেন আগে বিধিগুলো মেনে চলেন সেজন্য নিয়মিত ব্রিফ করা হচ্ছে।

আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসা বা সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যদের আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করেছি। রাজধানীর ডেমরায় ১০০ শয্যার একটা আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া মিরপুর ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মেহমানখানা এবং রাজারবাগ স্কুলকে আইসোলেশন সেন্টার বানানো হয়েছে। দিয়াবাড়ী পুলিশ লাইনসেও কাজ চলছে। ২-৩ দিনের মধ্যে সেখানেই ১৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত হয়ে যাবে।

 

"