মে মাসে ভারতে করোনা তাণ্ডব

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই সম্ভবত শীর্ষে পৌঁছবে ভারতের করোনা গ্রাফ এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, এরপর থেকে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করার পরে এখনো পর্যন্ত দেশে নতুন করে অন্তত ২ হাজার ৮০০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ভারত করোনা পরীক্ষার সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার ফলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও প্রচুর বাড়বে

বলে মনে করা হচ্ছে। যেসব রাজ্য প্রথম থেকেই লকডাউনের পথে হেঁটেছে, করোনা মোকাবিলায় সেসব রাজ্যই এগিয়ে আছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজস্থান, বিহার এবং পাঞ্জাব প্রথম থেকেই লকডাউন করায় তাদের করোনার গ্রাফ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে এখনো আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্য।

এদিকে নবান্নে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জেলার ডিএম ও এসপিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন। সেই সঙ্গে গ্রামে লকডাউনের কি পরিস্থিতি রয়েছে তা তিনি জানতে চাইবেন। জেলায় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারগুলোর কী পরিস্থিতি, জেলায় কর্মরত চিকিৎসক, নার্সদের স্বাস্থ্যের হাল, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো পিপিই পোশাক পেয়েছেন কিনা এসব বিষয়ে সবিস্তারে জানবেন তিনি। এদিকে এনআরএস হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স এবং চিকিৎসাধীন এক প্রসূতির শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলায় বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ৯১ জনের কোয়ারান্টিন তালিকা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। তাদের মধ্যে ৩৪ জন চিকিৎসক, ৫৪ জন নার্স ও তিন জন স্বাস্থ্যকর্মী। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১০০০ জনের শরীরে মিলেছে করোনাভাইরাস। এর ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮৭। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের শুক্রবারের সকালের বুলেটিনে বলা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত বেড়ে হয়েছে ৪৩৭। তবে আশার কথা এই যে, করোনা জয় করে সেরে ওঠার হার একটু বেড়ে ১৩.০৬ শতাংশ হয়েছে। এই হারই বৃহস্পতিবার ১২.২ শতাংশ ও বুধবার ১১.৪১ শতাংশ ছিল।

এর মধ্যেই রিভার্স রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর ঘোষণা করেছেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। ৪ বেসিস পয়েন্ট থেকে কমে হয়েছে ৩.৭৫%। তবে অপরিবর্তিত থাকছে রেপো রেট। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য আপাতত ৫০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন আরবিআইয়ের গভর্নর। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই প্যাকেজের পরিমাণ ভবিষ্যতে আরো বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। আবাসন শিল্পেও ১০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের ঘোষণা করেছেন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় রিজার্ভ ব্যাংক পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখছে বলে জানিয়েছেন আরবিআইয়ের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। এই মুহূর্তে ভারতের সম্ভাব্য আর্থিক বৃদ্ধির হার ১.৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির সম্ভাব্য হার ৭.৪ শতাংশ। শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, দেশের ব্যাংকগুলো নগদের জোগান বাড়ানো হয়েছে। জিডিপির ৩.২ শতাংশ নগদের জোগান দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে সিকিমে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা শূন্য। ১৬ মার্চ সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিদেশি ও দেশি পর্যটকদের রাজ্যে ঢোকার সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সিল করা হয়েছিল বর্ডার। একেবারে সহজ স্ট্র্যাটেজি। আর তাতেই বড়সড় সাফল্য পেল সিকিম। করোনা রোখার তাগিদে সিকিমের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল সিকিম প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং সবার কাছে খুব প্রয়োজন না হলে বাইরে না বেরোনোর আবেদন করেছিলেন। পুরো রাজ্য ছিল কোয়ারেন্টাইনে আবদ্ধ। তাই সেখানে এখনো পর্যন্ত একজনও করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায়নি। সহজ, সরল টোটকায় কাজ হয়েছে ম্যাজিকের মতো। সারা ভারতের প্রায় ৮ শতাংশ ভৌগোলিক পরিধি ধরে বিস্তার সিকিমের। সারা ভারতের মোট চার শতাংশ মানুষ বসবাস করেন সিকিমে।

 

"