বিশ্বে এক দিনে মৃত্যুর রেকর্ড

১,৪৫,৯৯০ জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৪,৪৯১

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বব্যাপী মহামারিতে রূপ নেওয়া করোনাভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরো ১১ হাজার ৩৭৫ জন। এ নিয়ে মৃত্যুও সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯০ জন। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২১ লাখ ৮২ হাজার ১৯৭ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৮১ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৬ হাজার ৫৫৮ জন (৪ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৯৫ জন (৭৯%) সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

এদিকে নতুন করে প্রায় ১৩০০ মানুষের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানিয়েছে, উহানে করোনায় মৃতের প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ৮৬৯ জন। এ তালিকায় নতুন করে ১ হাজার ২৯০ জনের নাম যোগ করা

হয়েছে। সংশোধন করা হয়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। নতুন ৩২৫ জন যোগ করে উহানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩৩৩ জন। চীনের মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক সপ্তাহ ধরে ৩,৩০০ জনে স্থিতিশীল থাকলেও এখন এই সংখ্যা এক লাফে ৪,৬০০ জনে উঠেছে। এর কারণ হলো উহান শহরে, যেখানো সর্বপ্রথম করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ যা আগের সংখ্যার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি।

এত দিন এসব মানুষের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে শিনহুয়া। প্রথম কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই বাড়িতে মারা গেছেন এবং সে সময় তাদের অনেকেরই করোনার টেস্ট করা হয়নি।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ভাইরাসটির আক্রমণে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার হিসেবে যেকোনো দেশকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৪ হাজার ৪৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির নিউইয়র্ক রাজ্যে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়েছে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে মোট মৃত্যুর অর্ধেকেই হয়েছে শুধু এই রাজ্যেই। সেখানে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭০ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। আর মোট মৃত্যু ৩৪ হাজার ৬১৭। করোনাভাইরাসে এক দিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যায় এর পরের অবস্থানে রয়েছে স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য। জার্মানিতে মৃতের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও বাকি দেশগুলোতে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এ রাজ্যে শাটডাউনের মেয়াদ ১৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে আরো কমপক্ষে তিন সপ্তাহ লকডাউন জারি থাকবে বলে জানিয়ছে দেশটির সরকার। গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের পক্ষ থেকে এমনটি জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব।

সংবাদ সম্মেলনে ডমিন রাব বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান ব্যবস্থা কমপক্ষে আরো তিন সপ্তাহ চলতে হবে। অবস্থা খারাপ হবে যদি আমরা এটি দ্রুত তুলে নেই। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৩ মার্চ থেকে তিন সপ্তাহের জন্য যুক্তরাজ্যে লকডাউন জারি করা হয়।

ওয়ার্ল্ড ও মিটারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৯৩ জন। মারা গেছেন ১৩ হাজার ৭২৯ জন।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত ইউরোপের দেশ ইতালিতে বেড়েই চলেছে মৃতের সংখ্যা। গত বৃহস্পতিবার দেশটিতে এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন ৫২৫ জন। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭৮৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৭২ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী।

নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নাগরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান অ্যাঞ্জেলো বোরেলি জানান, করোনায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৭০ জনে আর আক্রান্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৪১ জন।

বোরেলি বলেন, ইতালিতে করোনা ঠেকাতে ও জনগণকে সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার ১৬৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

এদিকে, ইতালিতে আক্রান্তদের সেবা করতে গিয়ে ১২২ চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকদের সংগঠন এফএনএমএসইও।

বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতালির কোরামোনায় শাহজাহান মির্জা (৩০) নামে আরো এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তার চাচা সৈয়দ মুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শাহজাহানের দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায়। এ নিয়ে করোনায় ইতালিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হলো।

স্পেনে কয়েক দিন থেকে করোনায় মৃত্যুহার ৫শর ঘরে ওঠা-নামা করেছে। সরকারি হিসেবে শেষ ২৪ ঘণ্টায় এ ভাইরাসে দেশটিতে নতুন করে আরো ৫৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৫২৩। গত বৃহস্পতিবার স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।

ফ্রান্সে আরো ৭৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ১৭ হাজার ৯২০ জনে দাঁড়াল। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জারোম সালোমন এ কথা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালে ভর্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৭৪ জন এবং আইসিইউতে করোনা রোগীর সংখ্যা ২০৯ জন কমেছে।

তিনি বলেন, ফ্রান্সে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে ১১ হাজার ৬০ এবং বৃদ্ধনিবাস বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে আরোপ করা কড়াকড়ি তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ছয়টি শর্ত দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। প্রতিটি রোগীকে শনাক্ত করে আইসোলেট ও চিকিৎসা করার উপযোগী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকতে হবে। কর্মস্থলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্র : ৩৪,৬৪১

স্পেন : ১৯,৩১৫

ইতালি : ২২,১৭০

ফ্রান্স : ১৭,৯২০

জার্মানি : ৪,০৫২

যুক্তরাজ্য : ১৩,৭২৯

ইরান : ৪,৮৬৯

 

"