দেশে করোনা কাড়ল আরো ১৫ প্রাণ

মৃত্যু বেড়ে ৭৫, আক্রান্ত ১৮৩৮

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আরো ১৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস। ফলে ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরো ২৬৬ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮৩৮ জনে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। এতে নিজের বাড়ি থেকে যুক্ত হন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এবং আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এ সময় করোনা বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে প্রায় ৪০ জেলায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে এবং বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে গিয়েছেন। আমরা ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত একটু কষ্ট করি আর বেশি বেশি করে পরীক্ষা করি। করোনার মূল যুদ্ধ হলো ঘরে থাকা। একইসঙ্গে নিয়মিত গরম পানি খাওয়ায় পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা সেগুলো মেনে চলি।

মন্ত্রী বলেন, পিপিইর কোনো সংকট নেই। পিপিই তৈরি করতে লেট হয়েছে কারণ প্রস্তুতকারক ও কাঁচামাল ছিল না। এখন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন প্রতিদিন ১ লাখ পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। ২০টি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে করোনা শনাক্তকরণে। মানুষ পরীক্ষা করাতে চান না তথ্য গোপন করছেন। ফলে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সবাইকে বেশি বেশি পরীক্ষা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। লকডাউন অনেকে মানছেন না। বাজার এবং রাস্তায় অবাধে চলাফেরা করছেন। আমাদের লকডাউন মানতে হবে। ইতালি ও স্পেন লকডাউন কঠোরভাবে পালন করে আজ এর সংক্রমণ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে।

তিনি আরো বলেন, করোনা হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। বেশ কিছু হাসপাতাল এরই মধ্যে তৈরি হয়ে আসছে। সব বিভাগীয় শহরে ২০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে আইসিইউসহ। জেলা পর্যায়ে ১০০ বেডের করোনা হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, বর্তমানে ৬৮ ভাগ করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর ৩২ ভাগ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যদিও তাদের মধ্যে সবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সামাজিক চাপের কারণে তাদের যেতে হয়েছে। আমি এখানে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাইবোনদের উদ্দেশে বলতে চাই, একজন রোগী যদি বাড়িতে চিকিৎসা নিতে পারে সেটিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও উৎসাহিত করেছে।

তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে রোগীকে হোম আইসোলেশন থাকতে হবে এবং তার সঙ্গে যেন কারো মেলামেশা না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে প্রতিবেশী বা ভাইবন্ধু যারা আছেন তারা যদি রোগীকে সাহায্য করি সে যেন বাসায় কারো সঙ্গে মেলামেশা না করে কঠোরভাবে হোম আইসোলেশন মেনে চিকিৎসা নিতে পারেন এবং সেটি তার জন্য ভালো।

আইইডিসিআর পরিচালক আরো বলেন, এছাড়া আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও এটি ভালো। কারণ যাদের হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই তারা যদি আসনে তাহলে যাদের জন্য প্রয়োজন হয়তো তারা সেই সুযোগ পাবেন না। তবে যারা বাড়িতে বসে চিকিৎসা নেবেন তারা নিয়মিত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। কঠোরভাবে হোম আইসোলেশন মেনে হটলাইন ফোন করে চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ নেবেন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তা-ব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২১ লাখ ৮৫ হাজার প্রায়। মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজারেরও বেশি। তবে সাড়ে ৫ লাখ রোগী এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৩৮। মারা গেছেন ৭৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ জন। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নানা সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

 

"