করোনার আঁধারে বৈশাখ উদযাপন

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার বাংলা নতুন বছর বাঙালির জীবনে এসেছিল অনেকটা বর্ণহীনরূপে। মহামারি করোনার কারণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোথাও ছিল না আনুষ্ঠানিকতা। ছিল না মঙ্গল শোভাযাত্রা। নিস্তব্ধতায় মুড়ে ছিল রাজধানীর রমনার বটমূল থেকে গ্রাম পর্যন্ত। তাই শুধুই প্রাণের অর্ঘ্যে বঙ্গাব্দ ১৪২৭-কে বরণ করে নিলো ঘরবন্দি মানুষ। চারপাশজুড়ে যদিও শূন্যতা তবু সেই শূন্যতার ভিড়েও বৈশাখের রঙে প্রকৃতি ভীষণ রকম রঙিন। বাতাসের দোলায় দুলেছিল সবুজ, দুলেছিল রঙিন ফুল, যে দোলায় মিতালিতে মুখর ছিল পাখিরাও। শোরগোল ছিল না শুধু মানুষের, ছিল না বৈশাখের বর্ণাঢ্য হই চই, নেই হাতের মুঠোয় হাত, আর পায়ে পায়ে রমনার বটমূল কিংবা শাহবাগ আর টিএসসি চত্বর অথবা ছিল না পথে পথে কুঁড়েঘর, আর পাতে পান্তা-ইলিশের তোড়জোড়।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রকোপে লকডাউনে থাকায় এ বছর প্রাণচাঞ্চল্যহীন এক পহেলা বৈশাখ কাটিয়েছে পুরান ঢাকাবাসী। অন্য বছর বৈশাখের প্রথম প্রহরে রঙবেরঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে রমনায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে হাজির হয় এ এলাকার মানুষ। হাজির হয় স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাবা-মায়ের হাত ধরে বৈশাখি মেলা ঘুরে বেড়ায় শিশুরা। কিন্তু এ বছর এসবের কিছুই ছিল না। জনমানবহীন ছিল পুরান ঢাকার অলিগলি-রাস্তা।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ বছর ঘরে বসেই নববর্ষ পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ফলে সারা দেশের মতো পুরান ঢাকার মানুষও বাইরে বের হয়নি। ঘরে বসেই এবারের বৈশাখ উদ্যাপন করেছে তারা।

গত মঙ্গলবার পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার, ইসলামপুর, ধূপখোলা মাঠ, বাহাদুরশাহ পার্ক কোথাও পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হতে দেখা যায়নি। এসব এলাকার দোকানগুলোতেও ছিল না প্রতি বছরের সেই হালখাতা উৎসব। এদিন কোথাও বৈশাখী ঢাকঢোলের বাজনা বা অতিথিদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়নের দৃশ্য দেখা যায়নি। অচেনা এই সময়ে চেনা শহর-গ্রাম আর চিরচেনা উদ্যাপনগুলো যদিও ছিল না পথের গল্পে, তবে উৎসবের সেই উচ্ছ্বাস আর উল্লাসের অনুভূতিগুলোও ছিল যেন হৃদয়ের গোপন কুঠুরিতে। আর তাই এবারের আয়োজনটা হলো মনের আয়নায়।

মুঠোফোনে বেজে উঠেছিল ছায়ানট কিংবা উদীচীর এসো হে বৈশাখ। চিরায়ত উৎসবের লাল-সাদা গল্পে সামাজিকমাধ্যমই হয়ে উঠেছিল রমনা বটমূল, শাহবাগ কিংবা টিএসসি চত্বর।

বৈশাখ মানে শুধু রঙ নয়, বৈশাখ মানে পারস্পরিক বন্ধনও। সেই বাঁধনের গ-িতে আমরা ঘরে ছিলাম, সচেতনতার রঙে সাজিয়েছিলাম নিজেদের। প্রার্থনা ছিল মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা।

 

"