করোনায় কাতর বিশ্ব মৃত্যু ১,১৪২৪৭

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসসৃষ্ট কোভিড-১৯-এ কাতর বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস তার মৃত্যুতা-ব অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্বে মৃতের সংখ্যা গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৪৭ জনে। অর্থাৎ নতুন করে মারা গেছেন আরো প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ। ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাবে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের সাড়ে ১৮ লাখ মানুষ।

আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১৩ লাখ ৪৫৭ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫০ হাজার ৮৯২ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে চার লাখ ৪ হাজার ৫০০ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরের চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীন থেকে ছড়ালেও বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২২ হাজার ৫০০ জন। ইউরোপের দেশ ইতালিতে গত এক দিনে (১১ এপ্রিল) নতুন করে প্রাণ হারায় ৬১৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৬৮ জন এবং মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৫২ হাজার ২৭১ জন।

স্পেনে প্রাণ হারিয়েছে আরো ৫২৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট ১৬ হাজার ৬০৬ জন মারা গেছেন। দেশটিতে আক্রান্ত ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭ জন। আক্রান্তের দিক থেকে তারা ছাড়িয়ে গেছে ইতালিকেও।

এদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হতে পারে। দেশটির সরকারের এক জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এই বলে সতর্ক করেছেন। গতকাল সোমবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

গত রোববার যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোয় করোনায় প্রাণহানি ১০ হাজার অতিক্রম করে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সরকারের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা স্যার জেরেমি ফারারের কাছ থেকে সম্ভাব্য ভয়ংকর পরিস্থিতির ব্যাপারে সতর্কতা এলো।

ওয়েলকাম ট্রাস্টের পরিচালক স্যার জেরেমি বিবিসির অ্যান্ড্রু মার শোতে বলেছেন, করোনাভাইরাসে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ না হলে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হতে পারে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলোয় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৬০০ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। হাসপাতালের বাইরে যারা মারা গেছেন, তাদের হিসাব এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আর যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ।

ফ্রান্সেও আরো মারা গেছেন ৬৩৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩ হাজার ৮৩২ জন। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৫৪ জন। তবে সুস্থ হয়ে ফিরেছে ২৬ হাজার ৩৯১ জন।

চীনে ছয় সপ্তাহের মধ্যে গত রোববার সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বিদেশফেরত আক্রান্তদের দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে এবং এর জেরে বেইজিং করোনাভাইরাসের ধাক্কা দ্বিতীয়বার পেতে যাচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গত রোববার আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তার আগের দিন আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ জন। তার মধ্যে ৯৭ জনই বাইরের দেশ থেকে ফিরে আসার পর আক্রান্ত হন। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ১৬০ জন এবং মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৪১ জন।

আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আরো ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরো ১ হাজার ৬১৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক টুইটের বরাত দিয়ে গতকাল এ তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা। দেশটিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৭৩ হাজার ৩০৩। তাদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৯৮৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং মারা গেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন। এক টুইটে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলিরেজা ভাহাবজাদেহ এ তথ্য জানান।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিয়ানুশ জাহানপুর জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৭৭ জন গুরুতর অসুস্থ। করোনাভাইরাস মহামারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে এই ইরানে।

গত বছরের ডিসেম্বরের চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

আক্রান্ত সাড়ে

১৮ লাখ

যুক্তরাষ্ট্র : ২২,১১৫

স্পেন : ১৭,৪৮৯

ইতালি : ১৯,৮৯৯

ফ্রান্স : ১৪,৩৯৩

জার্মানি : ৩,০২২

যুক্তরাজ্য : ১০,৬১২

চীন : ৩,৩৪১

ইরান : ৪,৪৭৪

 

"