সিপিডির পরামর্শ

পরিস্থিতি মোকাবিলায় টাকা না ছাপিয়ে বিকল্প খুঁজুন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসের ক্ষতি সামাল দিতে নতুন করে টাকা ছাপানোর মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তবে সরবরাহ ঠিক রাখার জন্য টাকা না ছাপিয়ে বিকল্প উৎস খোঁজার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। গতকাল সোমবার ‘কোভিড-১৯, সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা : সিপিডির প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও প্রস্তাব’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সরকারকে এই পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, আমাদের মনে হয়, টাকা ছাপানোর এখনো সময় আসেনি। আমরা এমন একটা অবস্থায় পড়েছি সরবরাহের ক্ষেত্রে ডিপ্রেশন রয়েছে, মানুষের চাহিদা নেই। এই সময় মানুষের হাতে টাকা দিলে মূল্যস্ফীতি হবে। আমরা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সাহায্য আনতে পারি। সুতরাং টাকা ছাপানোর আগে অনেক চিন্তাভাবনা করা দরকার। তবে টাকার সরবরাহ ঠিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্য বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার বিভিন্নভাবে তারল্য বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এই মুহূর্তে টাকার সরবরাহের জন্য বিকল্প পথগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে রাজস্ব প্রণোদনা এবং মুদ্রানীতির মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের ব্যবস্থা করার। তিনি উল্লেখ করেন, এখনো সরকারের হাতে বিভিন্ন উপকরণ আছে। আমরা দেখেছি এক শতাংশ সিআরআর কমানো হলে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো তারল্য বাড়ে। এ ধরনের উপাদান এখনো সরকারের হাতে আছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সংকট যত ঘনীভূত হবে, আর্থিক খাতের সংকট তত ঘনীভূত হবে। এজন্য স্বাস্থ্য খাতকে এখন অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ২৫০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটাকে আরো বাড়াতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন খাতের জন্য যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে অর্থনীতি চাঙা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সরকার যে প্রণোদনাগুলো দিয়েছে, তার উদ্দেশ্য অর্থনীতিকে চাঙা করা, চাহিদাকে চাঙা রাখা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা এবং বাজারে সরবরাহ সচল রাখা। যাতে উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে বাজারে জিনিসপত্র থাকে এবং বাজারের জিনিসপত্র যেন মানুষ কিনতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, পৃথিবীর অনেকে দেশে কিন্তু জিডিপির ১১-১২ শতাংশ, এমনকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে অর্থনীতিকে চাঙা করার জন্য। সুতরাং আমরা মনে করি, সরকার যে প্রণোদনাগুলো দিয়েছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অর্থনীতিতে চাঙাভাব দেখতে পারব।

এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতির বড় শক্তির জায়গা ৮০-৮৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ চাহিদার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এজন্য আমরা যে প্যাকেজটির কথা বলেছি, এর মাধ্যমে চাহিদাকে চাঙা করতে পারব এবং এটার মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারব। তিনি উল্লেখ করেন, যেহেতু অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপরে আমাদের অর্থনীতি বেশি নির্ভরশীল, সুতরাং এগুলো করতে পারলে অন্য অনেক দেশের থেকে আমাদের এখানে সার্থক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং আমরা ধকল কাটিয়ে উঠতে পারব বলে মনে করি।

 

"