এ আঁধার কেটে যাবে

নববর্ষের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী * করোনা শেষে অর্থনীতিকে তুলতে ৪ পরিকল্পনা * দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত হলে ৫-১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

করোনা মহামারির মধ্যে দেশবাসীকে ঘরবন্দি অবস্থায় বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এক দিন এ আঁধার কেটে যাবে। তিনি বলেন, অর্থনীতির ওপর করোনার প্রভাব মোকাবিলায় চারটি মূল কাজের পরিকল্পনা করেছে সরকার। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৮৫০ কোটি টাকা।

এই সংকট থেকে উত্তরণে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও জানান তিনি, যা দেশের জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা আমাদের অর্থনীতির জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা জানি না, এই সংকট কত দিন থাকবে এবং তা আমাদের অর্থনীতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবু সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যে ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থনীতির উত্তরণে চারটি মূল কার্যক্রম নির্ধারণের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যা অবিলম্বে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট তিন মাসে, স্বল্প মেয়াদে আগামী অর্থবছরে এবং মধ্য মেয়াদে পরবর্তী তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই চার কার্যক্রম হলোÑ

০০ সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা : সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

০০ আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন : অর্থনৈতিক কর্মকা- পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণœ রাখা হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য।

০০ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি : দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে।

০০ মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা : অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ এমনভাবে বৃদ্ধি করা যেন মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে গত ২৫-এ মার্চ থেকে ২৫-এ এপ্রিল পর্যন্ত একটানা ৩২ দিন সাধারণ ছুটি বলবৎ হয়েছে। জরুরি সেবা কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ দেশের সিংহভাগ শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ছোটখাটো কারখানা বন্ধ। গণপরিবহন ও বিমান চলাচল স্থগিত।

এই পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় নেওয়া কর্মসূচিও তুলে ধরেন সরকার প্রধান। এই কর্মসূচিগুলোÑ

০০ স্বল্প-আয়ের মানুষদের বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করার জন্য ৫ লাখ টন চাল এবং ১ লাখ টন গম বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মোট মূল্য ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

০০ দিনমজুর, রিকশা বা ভ্যানচালক, মোটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্র্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষ যারা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লকডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন, তাদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। এ খাতে ৭৬০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে।

০০ সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত ‘বয়স্ক ভাতা’ ও ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা হবে। বাজেটে এর জন্য বরাদ্দের পরিমাণ ৮১৫ কোটি টাকা।

০০ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষদের জন্য গৃহনির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এই বাবদ সর্বমোট ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। কেউ গৃহহীন থাকবেন না।

০০ শিল্প খাতে আর্থিক প্যাকেজ : ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা, অতি-ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারিশিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড-ইডিএফের সুবিধা বাড়ানোর জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বিশেষ তহবিল বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা।

শিল্পোৎপাদনে করোনাভাইরাস মহামারির যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা কৃষি উৎপাদন দিয়ে কাটিয়ে উঠতে চাষাবাদ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের কৃষি উৎপাদনব্যবস্থা শুধু সচল রাখা নয়, আরো জোরদার করতে হবে। সামনের দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের খাদ্য সংকট না হয়, সেজন্য আমাদের একখ- জমিও ফেলে রাখা চলবে না।’

দেশে বর্তমানে খাদ্য সংকট নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে গত মৌসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

 

"