করোনায় ভেসে গেছে বৈশাখ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে বৈশাখী ঝড়ের মতো আসা করোনাভাইরাস মহামারিতে এবার প- হয়ে গেছে বাংলা নববর্ষ; এখন ঈদ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিবার রোজা শুরুর আগে থেকে পোশাকের বাজারে ক্রেতাদের চাপ সৃষ্টি হয়। বিক্রেতাদেরও এই সময়ে ব্যস্ততা যায় নতুন পোশাকের পসরা সাজাতে। কিন্তু এবারের ঈদের বাজারের শুরুটায় ভিন্ন চিত্র। বড় লোকসানের আশঙ্কায় আশঙ্কিত ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন তারা আগে কখনো হননি।

বিশ্বজুড়ে লাখো মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ানো করোনাভাইরাসের দেশে বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে লকডাউনে দেশ। আপাতত আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশ এমন অবরুদ্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সময়ে সব গণপরিবহন থাকছে বন্ধ, নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকানও বন্ধ; মানুষকে থাকতে হবে ঘরে, জরুরি প্রয়োজনে বের হলেও তা সীমাবদ্ধ সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পোশাক কেনাকাটা মূলত উৎসবকেন্দ্রিক। এজন্য পহেলা বৈশাখে অনেক বিক্রি হয়। এবার বৈশাখের জন্য প্রস্তুতি ছিল তাদের, কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে তাদের লোকসান হচ্ছে। এখন লকডাউন যদি আরো বাড়ে, তবে ঈদের আগে ক্ষতি সামলে উঠা দুরূহ হয়ে যাবে। ঢাকায় কাপড়ের বৃহত্তম পাইকারি বাজার ইসলামপুর। এখানে থেকে প্রায় সারা দেশে মালামাল যায়। সারা বছর বিকিকিনি হলেও ঈদকে কেন্দ্র করেই মূলত ব্যবসা হয়ে থাকে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ইসলামপুরে পাইকারি কাপড়ের দোকান বাংলাদেশ বস্ত্র করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. মিসবাহ উদ্দিন জানান করোনাভাইরাসের থাবায় তাদের বিপুল ক্ষতির কথা।

তিনি বলেন, এখানে ব্যবসা মূলত হয় রোজা ও তার আগের এক মাসে। এই দুই মাসেই আমাদের সারা বছরের আয় রোজগার উঠে আসে। যেটি এবার আমাদের পুষিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হবে। তিনি জানান, গত ১৫ মার্চ বন্ধ শুরু হওয়ার আগেই তারা অনেকেই দোকানে মালামাল তুলেছেন। আবার বাইরেও মালামাল বুকিং করে রেখেছেন। আর তাদের সঙ্গে অনেকের ব্যবসা হয় মালামাল বিক্রি করে টাকা পরিশোধের হিসাব করে।

গত বছর আমাদের কাছ থেকে অনেকে মালামাল নিয়েছেন। তারা এবার সে টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু এবার আমাদের মতো করে তারা ও ব্যবসা বন্ধ রেখেছেন। যাতে করে টাকা পাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে। সবার তো একই অবস্থা। টাকার জন্য কাউকে চাপও দেওয়া তো যাবে না। এটা আমাদের জন্য চরম ক্ষতি। মানিকের দাবি, প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলেও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। অন্যান্য খরচও এর সঙ্গে যুক্ত আছে।

 

"