এক দিনে নতুন আক্রান্ত ১৩৯, মৃত্যু আরো ৪

করোনায় নতুন ঝুঁকিপূর্ণ লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট ঠাকুরগাঁও ও ঝালকাঠি

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে একদিনেই ১৩৯ জনের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৬২১ জন। গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আরো চারজনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৪ জন। গত একদিনে একজন চিকিৎসকসহ আরো তিনজন সুস্থ হয়ে উঠায় এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, ঢাকার ভেতরে ও বাইরে মোট ১ হাজার ২৫১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৩৪০টি। সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ হাজার ৬৫৩টি। নতুন আক্রান্ত ১৩৯ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ঢাকা শহরে রয়েছে ৬২ জন এবং ঢাকা শহরের বাইরে অন্যান্য এলাকায় বাকিরা। এছাড়া নতুন করে চার জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। জেলা চারটি হলো লক্ষ্মীপুর, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও ঝালকাঠি। এ চারটি জেলায় যারা নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সেখানে গেছেন।

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, এ কারণেই আমরা বার বার সতর্ক করছি যে, এ সময় আপনারা কেউ ভ্রমণ করবেন না। এ সময় বাড়িতে থাকতে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ডা. ফ্লোরা জানান, ১ হাজার ২৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৩৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬২১। আক্রান্তদের মধ্যে আরো চারজন মারা গেছেন। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৪ জনে। নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী। এছাড়া যারা আগে থেকে আক্রান্ত, তাদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৯ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে সারা দেশে মোট ২০ হাজার ৫২৫ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তাদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৯ হাজার ১১১ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে ১ হাজার ৪১৪ জন।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ লাখ। মারা গেছেন ১ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবে ৪ লাখের মতো রোগী এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন। আর গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথমদিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত কয়েক দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬২১। মারা গেছেন ৩৪ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্রবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ। কিন্তু এত কিছুর পরেও মানুষ সচেতন না উল্টো ঘর থেকে বেরিয়ে বিপদ আরো বাড়াচ্ছে।

 

"