কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকা হচ্ছে

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাধিকবার নির্দেশনার পরেও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে যে সরকারি কর্মকর্তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, তাদের তালিকা চেয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল শনিবার বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত কর্মকর্তাদের এই তালিকা চাওয়া হয়েছে।

কারণ সরকার বার বার বলছে, সরকারের কর্মচারীরা তাদের কর্মস্থলে থেকে এই ক্রাইসিসকে মোকাবিলা করবে। কিন্তু কেউ কেউ এটাকে ছুটি হিসেবে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে। অথচ ত্রাণ বিতরণের সময় ইউএনওরা ট্যাগ অফিসারকে অনেক ক্ষেত্রে পাচ্ছেন না।

কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সরকারি ভাষায় তাকে ‘ট্যাগ অফিসার’ বলা হচ্ছে।

অনেক জায়গায় ট্যাগ অফিসার ত্রাণ বিতরণ তদারকি করছেন না জানিয়ে সচিব হারুন বলেন, ফলে ত্রাণের জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে, এদিক সেদিক চলে যাচ্ছে। এসব দেখার দায়িত্ব তো ওই সরকারি কর্মকর্তারই। ফলে আমরা বলেছি, যারা দায়িত্ব পালন করছেন না তাদের তালিকা পাঠাতে। এই তালিকা পাওয়ার পর আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

দুস্থদের মধ্যে বিতরণের ১০ টাকা কেজি দরের চাল এদিক সেদিক হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন জনপ্রশাসন সচিব।

তিনি বলেন, ১০ টাকা মূল্যের চালের ডিলাররা এ কাজগুলো করছেন। যখন চাল বিতরণ করা হয় কেউ সর্বোচ্চ ৫ কেজি কিনতে পারেন। দেখবেন এসব চাল বিতরণের আশপাশে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসে থেকে চাল কেনেন অনেকে। অনেকে ৫ কেজি চালের মধ্য থেকে তিন কেজি বিক্রি করে ওই টাকা দিয়ে অন্য জিনিসপত্র কিনে বাড়ি যায়, এটা হয়।

এভাবে চাল কেনাকে ‘অন্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, আমরা ইউএনদেরকে বলেছি, দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বসে যারা ত্রাণ কেনে, এদের ধরতে হবে। পুলিশ দিয়ে এদের তাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ ১০ টাকার চালের আসল দাম তো ৫০ টাকা। ওই চাল তারা একত্র করে বাজারে বিক্রি করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, নির্দেশনার পরেও যারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন, তাদের তালিকা পাঠাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে। আমরাও তাদের তালিকা চেয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিদের চিঠি পাঠিয়েছি।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে প্রথমে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ছুটি’ ঘোষণা করে সরকার। পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় পরে তিন দফায় এর মেয়াদ বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত অফিস-আদালত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

তবে প্রথম দফায় ছুটি ঘোষণার আগেই গত ২৪ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবশ্যই নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশনা দেয়।

ছুটি ঘোষণার পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে আদেশ জারি করে। সরকারের এই নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ১১ জন সরকারি চাকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এসব সরকারি কর্মকর্তাকে উপজেলা কন্ট্রোল রুম এবং ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি কর্মহীনদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিতে চার দফায় ২৮ কোটি ৪৫ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ৬৫ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়া সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

 

"