এলাকায় এলাকায় স্বেচ্ছা লকডাউন

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আক্রান্ত বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ২২টি জেলায় করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩৩০ জন। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই আছে সবচেয়ে বেশি ১৯৬ করোনা রোগী। ঢাকার ৬১টি এলাকায় এসব রোগী পাওয়া গেছে। করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া এলাকা কিংবা বিল্ডিং লকডাউন করে দিচ্ছে পুলিশ। এর পাশাপাশি করোনা থেকে বাঁচতে নিজেরাই বিল্ডিং কিংবা নির্দিষ্ট কোনো আবাসিক এলাকা স্বেচ্ছায় লকডাউন করছেন সেখানে অবস্থিত বাড়ির মালিকরা। রাজধানী ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে বেশ কয়েকটি এলাকায়। এদিকে শনাক্ত বাড়তে থাকায় এখন ঢাকায় অর্ধশতাধিক এলাকায় লকডাউন পরিস্থিতি। ঢাকায় প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে। পরে সংক্রমণরোধে লকডাউন করা হয় ওই এলাকা। এরপর টোলারবাগসহ একে একে শনাক্ত এলাকা বাড়তে থাকে, একই সঙ্গে বাড়তে থাকে লকডাউন করা এলাকাও।

ঢাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকায় মিরপুর-১০-এর ৭ নম্বর রোড, মিরপুর-১৩-এর ডেসকো কোয়ার্টার, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের একটি সড়ক, মিরপুর-১ এর ওভারব্রিজ এলাকা, কাজীপাড়ার একাংশ এবং সেনপাড়ার একাংশ করা হয় লকডাউন। মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন শনাক্ত।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাসাবো এলাকা। আইইডিসিআর জানায়, ঢাকায় মিরপুরের পরেই ক্লাস্টার পদ্ধতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে বাসাবোতে। প্রশাসনের পাশাপাশি এই এলাকার বিভিন্ন অলিগলি লকডাউন করেছেন স্থানীয়রাই। নন্দীপাড়ার ব্রিজের পাশের এলাকাও লকডাউন।

আশকোনার কিছু অংশ উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের একটি সড়ক এলাকাও লকডাউন করা হয়েছে। বসুন্ধরার এ্যাপোলো হাসপাতালসংলগ্ন এলাকা, ডি ব্লকের ৫ নম্বর সড়কও করা হয়েছে লকডাউন, মহাখালীর আরজতপাড়ার একটি ভবন সিল করেছে পুলিশ।

করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় লকডাউন হয়েছে বুয়েট এলাকার একাংশ, ইস্কাটনের দিলু রোডের একাংশ, নয়াটোলার একাংশ ও পল্টনের কিছু অংশ।

ওয়ারী, নারিন্দার একাংশ, সোয়ারীঘাটের কিছু অংশ, ইসলামপুরের একাংশ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী, মীর হাজিরবাগ, ডেমরার একাংশও লকডাউন করা হয়েছে। পশ্চিম মানিকনগর, লালবাগের খাজে দেওয়ান রোডের একাংশেও একই দশা।

পুলিশ জানায় লকডাউন করার আগে যারা বাসার বাইরে ছিলেন তারা এলাকায় ঢুকতে পারবেন। তবে অনুমতি এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কেউ বের হতে পারবেন না। নগরজুড়ে সহস্রাধিক বাড়ি এখন লকডাউনের আওতায়।

মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোড ও স্যার সৈয়দ রোড এলাকার বাড়ির মালিকরা তাদের এলাকায় যান চলাচল সীমিত করেছে। এই এলাকার প্রবেশপথ ছয়টি থাকলেও পাঁচটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মোহাম্মদপুর পোস্ট অফিসের পাশের গেটটি এলাকার মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে খোলা রাখা হয়েছে। বন্ধ প্রতিটি গেটে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, বর্তমান করোনাভাইরাসের কারণে গেটটি সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে, পোস্ট অফিসের নিকট ২ নম্বর গেট ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হলো। এর পাশাপাশি ২ নম্বর গেটে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে দেওয়া আছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং স্প্রে। তারা এলাকায় প্রবেশকারী রিকশাচালক এবং সাধারণ মানুষদের স্প্রে এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেন।

ইকবাল রোডের ২ নম্বর গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী রিপন বলেন, এলাকার বিল্ডিং মালিকদের সিদ্ধান্তে গেট সব বন্ধ করা হয়েছে। শুধু একটি গেট দিয়ে চলাচল করার সুযোগ আছে। আমাদের পাশের এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে বলে শুনেছি। তারপর থেকে আমাদের গেট সব বন্ধ।

ইকবাল রোডের পাশেই লালমাটিয়া আবাসিক এলাকার বেশির ভাগ গেটই বন্ধ। ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে বের হওয়ার একটি গেট এবং আড়ংয়ের পাশে একটি গেট খোলা রাখা হয়েছে এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য।

শুধু আবাসিক এলাকা নয়, রাজধানীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি নিজ উদ্যোগে লকডাউন করে দিয়েছেন অনেকেই। অপরিচিত ব্যক্তি, গৃহকর্মী, অতিথি কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না আবাসিক ভবনে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিস কিংবা ডেলিভারিম্যানদেরও প্রবেশে আছে নিষেধাজ্ঞা।

বনশ্রী আবাসিক এলাকার কয়েকজন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই এলাকার অনেক বাসার মালিকের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো আত্মীয় স্বজন না আসে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন বাড়ির বাইরে না যায় কেউ। এই এলাকার বাসিন্দা আকরাম জানান, তার বাসায় গৃহকর্মী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাড়ির মালিক। এছাড়া বহিরাগতদের পাশাপাশি ড্রাইভারদেরও আসতে নিষেধ করা হয়েছে।

একইভাবে রাজধানীর নিকেতন আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর এলাকার অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকেই মেহমান থেকে শুরু করে গৃহকর্মী ও ড্রাইভারদের আসা যাওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

"