ভারতে আক্রান্ত ৬৪১২ মৃতের সংখ্যা ১৯৯

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯৯। মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৪১২ জন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়েছে। দেশে করোনাতে সর্বাধিক আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬৪ জনের শরীরে মিলেছে মারণ ভাইরাস। এদিকে আর পাঁচটা দেশের তুলনায় দেশের করোনা পরিস্থিতি অনেক ভালো বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তার বক্তব্য, ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে এ দেশের পরিস্থিতি অনেক স্বস্তিদায়ক। রোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিতেও কোনো খামতি নেই। তাই দেশবাসীকে অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সারা দেশের ১৩৩টি জেলাকে করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আগেই ৬২টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছিল। হর্ষবর্ধন জানিয়েছেন, ১৯টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা এই ১৩৩টি হটস্পটই সংক্রমণ ছড়ানোর ভরকেন্দ্র।

একে মধ্যেই করোনাভাইরাসে এবার প্রথম মৃত্যু হলো অসমে। উত্তর-পূর্বের রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮, জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। শুক্রবার ভোর রাতে হাইলাকান্দি জেলার এক করোনা রোগী শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবারই ৬৫ বছরের অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ কর্মীর অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তাকে শিলচর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত বৃদ্ধ দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিগি জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার তার কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ আসে। দিল্লির অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সৌদি আরবেও গিয়েছিলেন তিনি।

ফের একবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে আদৌ লকডাউন তুলে নেওয়া উচিত হবে কিনা তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে দেশে ২১ দিনের লকডাউনের সময়সীমা, তার আগে লকডাউনের মেয়াদ আরো বাড়বে না উঠে যাবে তা জাতির উদ্দেশ্য ভাষণে জানাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করবেন প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশের করোনা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এখনই লকডাউন উঠে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে সর্বদল বৈঠকেও সেরকমই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে লকডাউন বাড়লেও এবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই খোলা হবে না বলে খবর। লকডাউনের ফলে অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কা লাগতে চলেছে বলে গত বৃহস্পতিবারই সতর্ক করেছে রিজার্ভ ব্যাংক। করোনাভাইরাসের ফলে যে ক্ষেত্রগুলো সবচেয়ে ক্ষতির মুখে, তার মধ্যে অন্যতম অসামরিক বিমান পরিবহন। মাঝের সিট খালি রেখে কোনো কোনো রুটে বিমান চলাচল শুরু হতে পারে বলে খবর।

এদিকে এবার করোনা আক্রান্ত ইসরায়েলেরও পাশে দাঁড়াল ভারত। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন পাঠানো হয়েছে সেদেশেও। এই সাহায্যের জন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে নিজের একটি ছবিও টুইট করেছেন তিনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নিজের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইট করেছেন, ইসরায়েলে ক্লোরোকুইন পাঠানোর জন্যে প্রিয় বন্ধু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। ইসরায়েলের সব নাগরিকের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। জানা গেছে, ৩ এপ্রিল নেতানিয়াহু এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন।

 

"