রমজানে লবণে মুনাফাখোরি হলে কঠোর ব্যবস্থা

দেশে উদ্বৃত্ত সাড়ে ১০ লাখ টন

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

আসন্ন রমজানে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। সহ্য করা হবে না লবণের সিন্ডিকেট। সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় বাজার তদারকি করবে। দেশে এখন লবণের কোনো সংকট নেই।

সূত্রটি বলছে, দেশে লবণের মাসিক যে চাহিদা, যার মোট পরিমাণ ৭৫ হাজার টন। এই চাহিদার বিপরীতে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত মাঠ ও মিল মিলিয়ে মজুদ রয়েছে ১০.৩৪ লাখ টন লবণ। এ ছাড়া সব জেলার ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাপর্যায়েও আয়োডিনযুক্ত লবণ মজুদ রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) লবণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আয়োডিনযুক্তকরণ, মজুদ ও মূল্য-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯-২০ লবণ মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮.৫০ লাখ টন। এর মধ্যে এ বছরের গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১০.৩৪ লাখ টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ লবণ মৌসুমে এ সময় লবণ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯.৭৫ লাখ টন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে মোট নিবন্ধিত লবণ মিলের সংখ্যা ২৭০। এরই মধ্যে করোনা প্রভাবের আগে ১৮০টি মিল চালু ছিল। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ১৭০টি মিল চাহিদা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বল্প পরিসরে চালু রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ বছরের মার্চ মাসে ৭৩ হাজার ২৮৮ টন আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ ও ৫৫ হাজার ২৬ টন আয়োডিনবিহীন শিল্প লবণ উৎপাদিত হয়েছে। করোনার প্রভাবে বর্তমানে শিল্প লবণের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং এর প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতিতে মাঠে লবণ উৎপাদন, মিলে প্রক্রিয়াজাত ও আয়োডিনযুক্তকরণ ও বাজারজাতকরণে বিসিক বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লবণ মিলসমূহ চালু রাখার জন্য বিসিকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করছে মন্ত্রণালয়টি বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন ও বাজারজাত অব্যাহত রাখতে চাহিদা অনুযায়ী লবণ মিলগুলোতে পটাশিয়াম আয়োডিন সরবরাহের ব্যবস্থা রাখছে সরকার।

এদিকে করোনার দোহায় দিয়ে যাতে কোনো মহল কারসাজি করতে না পারে, সেজন্য বিসিকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে মাঠে লবণ উৎপাদন, মিলে লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আয়োডিনযুক্তকরণ, বাজারজাতকরণসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানসহ নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করতে নির্দেশনা রয়েছে।

পাশাপাশি, লবণচাষিদের নিয়মিত আবহাওয়া সংবাদ প্রদান, লবণ উৎপাদন ও মজুদ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা প্রদান, ক্রুড লবণ বাজারজাতকরণের জন্য লবণচাষি ও মিলারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া লবণমিলে শিল্প ও আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন, বিক্রি, মজুদ ও মূল্য সম্পর্কিত নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি করে তা বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

 

"