অচল বিশ্বে মৃত্যুর মিছিল

প্রকাশ | ০৮ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাস মহামারিতে অচল গোটা বিশ্ব। হুহু করে বাড়ছে আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্বের অন্তত ১৩১ দেশে চলছে লকডাউন। থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল, প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনায় প্রাণহানি ও অসুস্থদের পরিসংখ্যান রাখা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মরণঘাতী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৭৫ হাজার ৭৬০ জন। মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৪ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৪ জন। বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ১০ হাজার ৯৪৩ জন। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ইউরোপ ও আমেরিকায়। বেশির ভাগ মৃত্যু হয়েছে এ দুই মহাদেশে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনে প্রতিদিন মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এ তথ্য জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৪টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৯৯। এর মধ্যে ৭৪ হাজার ৬৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ২ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৬ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৭ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৯২৩ জনের। তবে মৃতের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজার হ এরপর ৫২৩। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৪৭ জন। মৃতের হিসাবে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৪১। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৭৫।

মৃতের সংখ্যায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৯৮৪ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও ইরানে মারা গেছে যথাক্রমে ৫ হাজার ৩৮৫ এবং ৩ হাজার ৭৩৯ জন। উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩৫। যদিও দেশটির বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপনের অভিযোগ রয়েছে। উহানের একজন স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন যেকোনো মানুষ এই সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবেন।’

করোনাভাইরাসের মহামারি এখনো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। সিরিয়া, লিবিয়া ও ইয়েমেনের মতো সংঘাত কবলিত দেশগুলোতে সংক্রমণ শুরু হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। গুতেরেস বলেন, ভাইরাসটি দেখিয়ে দিয়েছে কত দ্রুত তা সীমান্ত পার হতে পারে, দেশ বিধ্বস্ত করে দিয়ে জীবন কেড়ে নিতে পারে।

মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি বলেছেন, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগে এ ব্যাপারে বিপুল তথ্য বিশ্বের কাছে ছিল। তখন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এই ভাইরাসের মহামারি ঠেকানো যেত। তবে মুনাফাবাজ ও দায়িত্বহীন রাজনৈতিক ও বাজার-ব্যবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে করোনার চেয়েও বড় দুই বিপদ আসছে। এর একটি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, অপরটি সম্ভাব্য একটি পরমাণু যুদ্ধ।

প্রাণহানি বেড়ে ৭৫,৭৬০

ইতালি : ১৬, ৫২৩

স্পেন : ১৩,৩৪১

যুুক্তরাষ্ট্র : ১০,৯২৩

ফ্রান্স : ৮,৯২৬

যুক্তরাজ্য : ৫,৩৮৫

ইরান : ৩,৭৩৯

চীন নতুন নেই

 

"