সুরক্ষা নিশ্চিত না করে মসজিদে যাবেন না : ইফা

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের মসজিদগুলোতে জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ নিয়ে বিভ্রান্তকর সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। গতকাল বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইফা জানায়, করোনার সংক্রমণ রোধে মসজিদগুলোয় জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখতে হবে। মসজিদ বন্ধ থাকবে না তবে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কেউ মসজিদে আসবেন না। তবে কোন প্রক্রিয়ায় মসজিদে নামাজের জামাতে মুসল্লি সীমিত রাখাতে হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না হয়ে মসজিদে আসা যাবে না। তবে কীভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত করে মুসল্লিরা মসজিদে যাবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ নেই।

এ বিষয়ে জানতে গতকাল বুধবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদকে একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত মঙ্গলবার আলেমদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া কথা জানানো হয় ইফার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। ইফার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসন জামে মসজিদের খতিব আহমাদুল্লাহ। বৈঠকে কী পরামর্শ দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সীমিত পরিসরে মসজিদে জামাত চলবে। সীমিত পরিসরের ব্যাখ্যাটা হলো এই যে, মসজিদের যারা স্টাফ (খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম) আছেন যেভাবে সৌদি আরবের মক্কা মদিনায় নামাজ চলছে তারা সেভাবে জামাতে নামাজ আদায় করবেন। মসজিদে বন্ধ থাকবে না, মসজিদে আজান হবে, নামাজের আনুষ্ঠানিকতা চলবে। আমরা কে সুস্থ, কে অসুস্থ এটা বোঝার কোনো উপায় নেই। যেহেতু আমাদের সুস্থতা-অসুস্থতা বোঝার কোনো উপায় নেই, অতএব আমরা বাসা-বাড়িতে নামাজ পড়ব। মসজিদের স্টাফরা জামাতে নামজ পড়বেন, আর মসজিদের একেবারেই প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা নিশ্চিত যে তিনি সুস্থ তারা আসবেন। ফাঁকা ফাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করবেন। মূলকথা যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি সুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত নন, সেক্ষত্রে মসজিদে না এসে বাসায় নামাজ পড়বেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, যারা হাঁচি, কাশি, জ্বর আছে তারা কোনোভাবেই মসজিদে আসবেন না। মানুষকে গণহারে মসজিদে আসার জন্য নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

যদিও এমন কোনো নির্দেশনা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নেই। এদিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকার ও বিশেষজ্ঞদের সর্তকতার জন্য যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলার জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হলো। সবাই অপরাধমূলক কাজকর্ম থেকে বিরত হয়ে ব্যক্তিগতভাবে তওবা, ইস্তেগফার ও কোরআন তেলওয়াত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচাক ড. আনিস মাহমুদ, আল হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস, মারকাযুত দাওয়ার শিক্ষা সচিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক, শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, মিরপুরের চামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমের মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী প্রমুখ।

 

"