করোনায় নতুন সংক্রমণ নেই

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে করোনাভাইরাসে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আর কারো দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে এই তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবে এখন ৩৯ জন। তাদের মধ্যে আরো দুজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট সাতজনে। ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, সর্বশেষ যিনি করোনায় মারা গেছেন তিনি বিদেশ থেকে আসা এক রোগীর পরিবারের সদস্য। তিনি করোনা আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন গত ১৮ মার্চ। এরপর থেকে তিনি তার এলাকার একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে ছিলেন। তাকে সেখান থেকে ঢাকায় আনা হয় গত ২১ মার্চ এবং কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রাখা হয়। গতকাল সকালে তিনি মারা যান। তিনি একজন পুরুষ এবং বয়স ৬৫ বছর। তার ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন ছিল। এসব জটিলতার কারণে তিনি আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ জন। আরো ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে।

বাংলাদেশে ‘কম্যুনিটি সংক্রমণ’ শুরু

এই প্রথম বাংলাদেশে সীমিত আকারে হলেও কম্যুনিটি সংক্রমণ হচ্ছে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা এই প্রশ্নে জবাবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা দুইটি ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করছিলাম। এখন পর্যন্ত সেখানে সংক্রমিত হওয়ার উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি। সে কারণে সীমিতভাবে কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আমাকে বিস্তারিত তথ্যের বিশ্লেষণে বলতে হবে।’

‘লিমিটেড স্কেলে যে এলাকাটির কথা আমরা বলছি, সেখানে লোকাল ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে ভেবে আমরা ওই এলাকাটিকে আমরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে সেটা প্রতিরোধ করার কার্যক্রম নিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এটা সারা বাংলাদেশব্যাপী ট্রান্সমিশন হয়েছে, এরকম কোনো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।’

কম্যুনিটি সংক্রমণ প্রশ্নে এর আগে আইইডিসিআর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, ‘যখন কোনো সংক্রমক রোগের বিস্তার এমনভাবে ঘটে যে, তার উৎস সম্পর্কে তথ্য জানা যায় না, যেমন কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে যখন বিদেশফেরতদের সংস্পর্শ ছাড়াই একজন ব্যক্তি থেকে আরেকজন ব্যক্তির শরীরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে, হয়তো কাজ বা কেনাকাটা করতে গিয়ে অথবা এমন মানুষের মধ্যে ছড়ায় যারা মনে করেন যে তারা আক্রান্ত হয়নি, এভাবে রোগটি ছড়িয়ে পড়লে তখন তাকে কম্যুনিটি সংক্রমণ বলা হয়। তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের মতো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির পূর্ব ইতিহাস পাওয়া যায়, যেমন তিনি বিদেশে ভ্রমণ করেছেন কিনা অথবা বিদেশি বা বিদেশফেরত কারো সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা তখন পর্যন্ত সেটিকে কম্যুনিটি সংক্রমণ বলা যাবে না।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কেন্দ্র আরো বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে সরকার। ঢাকার বেশ কয়েকটি হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরের কয়েকটি হাসপাতালে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আইইডিসিআরের যোগাযোগের জন্য ০১৯৪৪৩৩৩২২২ অথবা ১০৬৫৫ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

"