দিল্লিতে সংঘর্ষে নিহত ২৪

* মোদির শান্তির বার্তা * ধরনায় কেজরিওয়াল

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

অশান্ত দিল্লিতে শান্তির বার্তা দিয়ে টুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। টুইটে জানিয়েছেন, শান্তি এবং একতা বজায় রাখা এ মুহূর্তে প্রধান কর্তব্য। দিল্লির ভাইবোনদের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখুন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শান্তি ফেরাতে পুলিশ এবং অন্যান্য এজেন্সি কাজ করে চলছে। অন্যদিকে দিল্লিতে বুধবারও হিংসা অব্যাহত। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে এখনো পর্যন্ত হিংসায় মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। জখম দুশোর বেশি। অনেক পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন। বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ও বিপক্ষের দিল্লিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। আদেশ দেওয়া হয়েছে ওদের দেখামাত্র গুলি করে হটিয়ে দেওয়ার।

এদিকে আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার মৃতদেহ মিলেছে চাঁদবাগ থেকে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং উপ-রাজ্যপাল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে আশ্বাস দেওয়া হয়, হিংসা নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সাহায্য করা হবে। ৪৫ কোম্পানি আধাসেনা রয়েছে ঘটনাস্থলে। বিরোধীদের প্রশ্নÑ এখনো পর্যন্ত কেন সেনা নামানো হচ্ছে না। এরমধ্যেই দিল্লির হিংসা সামাল দিতে আবারও সেনা নামানোর দাবি জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। হিংসা থামাতে ধরনায় বসার পর বুধবার তিনি টুইট করেছেন, পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, চেষ্টা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে দিল্লি পুলিশ। অবিলম্বে অন্যান্য এলাকায় কারফিউ জারি করা ও সেনা নামানো উচিত।

এদিকে, মৃত্যু মিছিল আটকানো যাচ্ছে না রাজধানী দিল্লিতে। বুধবার সকালে আরো পাঁচজনের মৃত্যুর খবর এসেছে সেখান থেকে। তাতে চার দিনের মাথায় সেখানে মৃত্যু সংখ্যা গিয়ে ঠেকল ২৪-এ। আহতের সংখ্যাও দুশোর কাছাকাছি। গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দিল্লিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩। এদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় আরো চারজনকে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় আরো একজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের এমডি সুনিল কুমার গৌতম। বেলা বাড়লে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। দুপুরে চাঁদবাগ থেকে এক গোয়েন্দা অফিসারের দেহ উদ্ধার হয়। তারপর লোকনায়ক হাসপাতালে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যু সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ার পাশাপাশি এখনো দিল্লিতে হিংসা অব্যাহত। এদিন ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ নতুন করে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয় উত্তর-পূর্বের ব্রহ্মপুরী-মুস্তাফাবাদ এলাকায়। গোকুলপুরীতে একটি পুরোনো জিনিসপত্রের দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এদিন জোহরিপুরায় ফ্ল্যাগমার্চ করে পুলিশ। গোকুলপুরীর ভাগীরথী বিহার এলাকায় ফ্ল্যাগমার্চ করে সিআরপিএফ, এসএসবি, সিআইএসএফ এবং পুলিশের যৌথবাহিনী। সিলামপুর, জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরীতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। দুষ্কৃতদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।

অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে সংঘর্ষ নিয়ে রাজনীতি করার পাল্টা অভিযোগ তুলে তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। দিল্লির আইনশৃঙ্খলার ভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর আর সেই মন্ত্রীর দায়িত্বে অমিত শাহ। সংঘর্ষ এত বড় আকার নেওয়ার জন্য অমিত শাহকেই নিশানা করে সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গোটা কেন্দ্রীয় সরকারই এর জন্য দায়ী। অমিত শাহের ইস্তেফা দাবি করছে কংগ্রেস। দিল্লির সংঘর্ষের জন্য বিজেপিকেই দায়ী করে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেছেন, এ সংঘর্ষের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। দিল্লির ভোটের সময় দেশবাসী সেটা দেখেছে। অনেক বিজেপি নেতা উসকানিমূলক মন্তব্য করে ভয় ও হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে। সোনিয়া গান্ধীর সংবাদ সম্মেলনের পরই পাল্টা জবাব দিতে আসরে নেমেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সাংবাদিকদের বলেন, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। এমন পরিস্থিতিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সব রাজনৈতিক দলের চেষ্টা করা উচিত। সেটা না করে উনি নোংরা রাজনীতি করছেন। সংঘর্ষে রাজনৈতিক রং দেওয়া অনুচিত। অমিত শাহ কোথায় ছিলেন বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। জবাবে জাভড়েকর বলেছেন, অমিত শাহ কোথায় সর্বদল বৈঠক করেছেন। যেখানে একজন কংগ্রেস নেতাও উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সভানেত্রীর মন্তব্য পুলিশের মনোবল ভাঙতে পারে বলেও অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।

 

"