চট্টগ্রাম সিটি ও ২ সংসদীয় আসনে ভোট ২৯ মার্চ

দুই উপনির্বাচন ব্যালটে চসিকে ইভিএমে ভোট

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবশেষে মার্চের শেষ সপ্তাহেই হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং যশোর-৬ ও বগুড়া-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন। আগামী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্ষা মৌসুম, পাহাড়ধস এড়ানো, এইচএসসি পরীক্ষার আগে ভোটের ডামাডোল সম্পন্ন করা এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের পর নির্বাচন করার বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল ২৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), মনোনয়পত্র যাচাই-বাছাই ১ মার্চ (রোববার) ও প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল ৫-৭ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ মার্চ। চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) নির্বাচন করবে ইসি। তবে বগুড়া ও যশোর সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন দুইটি অনুষ্ঠিত হবে প্রচলিত ব্যালটে।

তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হলেও চসিক এবং সংসদীয় আসনের দুইটি উপনির্বাচনের ভোট হবে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামানকে এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের। একইভাবে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়েছে স্ব স্ব জেলার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে।

নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে গতকাল রোববার বিকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর তফসিল ঘোষণা করে এসব তথ্য দেন। সচিব ছাড়াও এ সময় উপস্থিত ইসির যুগ্ম সচিব মো. ফরহাদ আহম্মদ খান ও জনসংযোগ পরিচালক মো. ইসরাইল হোসেন। এর আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে কমিশনের ৬১তম সভায় সিটি ও দুই উপনির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং কমিশনের যুগ্ম সচিব ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ভোটের সময়ে পরিবর্তন কেন আনা হয়েছে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র সচিব বলেন, ভোটারদের সুবিধার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ সকাল সকাল ভোটাররা কেন্দ্রে আসে না। এ ধরনের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তাই ভোটগ্রহণের ওই সময় নির্ধারণ হয়েছে।

ইভিএমে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তাকারী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষে অবস্থান করেছে। এটা প্রতিরোধে এবার কী ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানতে চাইলে মো. আলমগীর বলেন, এই ধরনের কাজ করার সুযোগ নেই। নির্বাচন করা একক কারো দায়িত্ব নয়। এটার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন সেসব প্রার্থী, তাদের সমর্থক, ভোটার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীÑ সবাই যদি যার যার দায়িত্ব পালন করেন তাহলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ নেই। সচিব বলেন, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সব দলই অংশ নেবেন বলে আমরা আশাবাদী। মো. আলমগীর বলেন, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ভোট করার জন্য যা দরকার কমিশন তা করবে। সব ভোটারকে বলব নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে আপনার যে অধিকার রয়েছে তা প্রয়োগ করবেন।

এদিকে, পুরোনো তথ্যে এবার চসিকের তথ্য ঘোষণা করা হয়েছে। কমিশন সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের পরিসংখ্যান কমিশন সভায় উত্থাপন করা হয়। ওই সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে যে ভোটার সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১১ জন। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র ছিল ৭২১টি এবং ভোটকক্ষ ছিল ৫ হাজার ১৪২টি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসির এক যুগ্ম সচিব বলেন, সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার ক্ষেত্রে সর্বশেষ ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্র এবং কক্ষের তথ্য সভায় জানানো হয়। কিন্তু এবারই ব্যতিক্রম দেখা গেল চসিক ও সংসদীয় আসনের দুই উপনির্বাচনে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার চট্টগ্রাম নির্বাচন সংক্রান্ত এক সফরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আগামী মার্চে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে। এপ্রিল মাসে রমজান, সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষাও রয়েছে। মার্চ মাস ফাঁকা আছে কিনা তা-ও দেখতে হবে। তবে মার্চ মাস একটি উপযুক্ত সময় হতে পারে। মার্চে পরীক্ষা তেমন একটা নেই। নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিইসির ওই কথা পরিপ্রেক্ষিতে তৃতীয় দফায় আজ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিসের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশন চেয়েছিল মার্চের ১২ অথবা ১৫ তারিখে এ সিটির ভোট আয়োজনের জন্য। কিন্তু আমরা ওই সময়টাকে উপযুক্ত নয় বলে জানিয়েছিলাম। কমিশন আমাদের অনুরোধ রেখেছেন। আমরা প্রস্তাব করেছি মার্চের ২৯ অথবা ৩০ তারিখে ভোট আয়োজনের। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়। নির্বাচনের পর প্রথম সভা হয় একই বছরের ৬ আগস্ট। এ সিটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৫ আগস্ট ২০২০। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটের ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে। এ সিটির মোট ওর্য়াড ৪১টি, সংরক্ষিত ওর্য়াড ১৪টি, মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১১ জন, সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৭২১টি এবং কক্ষ ৫,১৪২টি।

 

"