উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে ‘জয়ের উল্লাস’

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিজে) রায়ে প্রথম জয়ের উল্লাসে মেতে উঠেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো বিচারই পায়নি। এই রায় তাদের স্বস্তি এনে দিয়েছে। গাম্বিয়ার করা মামলায় ছয়টির দাবির মধ্যে চারটি তাদের পক্ষে আসায় প্রথম জয় হয়েছে তাদের। এজন্য মনে হচ্ছে প্রথম বিচারের স্বাদ পেয়েছেন তারা। এ রায়ে তারা খুশি। তবে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করারও দাবি তাদের। গতকাল বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় চারটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তারা এমন মন্তব্য করেন।

টেকনাফের লেদা, শালবন নয়াপাড়া ও লেদা রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখা গেছে, রায়ের খবর শুনতে ছোট ছোট দোকানে রোহিঙ্গারা ভিড় করছেন।

টেকনাফের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আবদুল হামিদ বলেন, ‘আইসিজের দেওয়া রায়ে আমরা অনেক খুশি, এটি মাত্র শুরু। এটি বিচারের প্রথম স্বাদ। তাছাড়া এই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই। কিন্তু প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যদি সামনে আনা যেত, তাহলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু হতো।’

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (ইউকে) প্রধান থুন কিং বলেন, ‘এ রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমার আরো বেশি চাপে পড়বে। কেননা এই মামলাতে মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিলের প্রধান অং সান সু চি নিজেই উপস্থিত ছিলেন। যদি বা বিভিন্ন সময়ে স্বাধীন তদন্ত প্যানেলের নামে বার বার রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত গণহত্যার ঘটনাগুলো এড়িয়ে গিয়ে সরকারি বাহিনীকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) সাধারণ সম্পাদক মাস্টার সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘ছয়টি দাবির মধ্যে চারটি আমাদের পক্ষে এসেছে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে অং সান সু চির যুক্তি খারিজ করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে সেখানে গণহত্যা হয়েছে। এজন্য রায়ের দিন সু চি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এই থেকে সু চির লজ্জা পাওয়া উচিত। তবে প্রত্যাবাসনের বিষয় নিয়ে যদি আলোচনা করত, তাহলে আরো ভালো হতো।’

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূন্যরেখা রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আইসিজের রায়ে খুশি, এটি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম জয়। কেননা যুগ যুগ ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নির্যাতনের শিকার হলেও বিচার পায়নি। এই রায়ে মনে হচ্ছে প্রথম বিচারের স্বাদ পেয়েছি।’

 

"