কারখানার পাশে জলাধার থাকতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প-কারখানার পাশে জলাধারসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আবদ্ধ ঘর নির্মাণ না করে খোলামেলা ঘর নির্মাণ করতে হবে। ঘরের বারান্দা থাকতে হবে। যাতে করে ঘরের ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভায় এসব কথা বলেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভায় মোট আটটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ২২ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রতিটি শিল্প-কারখানার পাশে জলাধার রাখতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অনেক সময় অবকাঠামোতে আগুন লাগলে পানি পাওয়া যায় না। জলাধার থাকলে ভালো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, অবকাঠামো নির্মাণে মাটি কাটতেই হয়। সুতরাং সহজেই আমরা একটা জলাধার নির্মাণ করতে পারি। একইসঙ্গে শিল্প-কারখানায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে বলেছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) ও তরল বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) অবশ্যই থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া একনেক সভায় জানানো হয়, বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানো ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য সারা দেশে উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন করবে সরকার। এই কাজে ব্যয় হবে ২০ হাজার ৫২৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

‘উপজেলা পর্যায়ে ৩২৯টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ দিন দিন বাড়ছে। এটি আমাদের অন্যতম শক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, ভালোমানের জনশক্তি যদি বেশি বেশি পাঠাতে পারি তবে রেমিট্যান্স আরো বাড়বে। তাই ৩২৯টি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জানুয়ারি ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রস্তাবিত ৩৮৯টি উপজেলার মধ্যে ৬৩টি উপজেলায় এর মধ্যে টিএসসি বিদ্যমান রয়েছে। তাই দ্বৈততা পরিহারের জন্য এই প্রকল্প থেকে ওই ৬৩টি উপজেলাকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট উপজেলা এবং বাংলাদেশের নবসৃষ্ট যেসব উপজেলায় কোনো টিএসসি নেই বা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়নি সেখানে টিএসসি স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে করে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি করে টিএসসি বিদ্যমান থাকবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৯৮৪ একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্রয়, একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ও প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক ডরমিটরি, ছাত্রীনিবাস, বাউন্ডারি ওয়াল, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, গভীর নলকূপ, ৫০০ কেভিএ সাবস্টেশন, শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধ মন্যুমেন্ট এবং পানি সংরক্ষণাগার ইত্যাদি করা হবে। প্রতিটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে জলাধারও নির্মাণ করা হবে।

৭১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জে ‘বিসিক শিল্পপার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সভায়। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) এর ভবন নির্মাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি (সিসিবিএস) প্রকল্পটি ১৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ৯৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুরে ‘শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন’ প্রকল্প একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকার নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

৩৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লক্ষ্মীপুর শহর সংযোগ সড়ক ও লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর-মাইজদী সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভোলা (পরানতালুকদারহাট)-চরফ্যাশন (চরমানিকা) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মো. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সভার কার্যক্রমে অংশ নেন।

 

"