চট্টগ্রামে অনুমোদনের অপেক্ষায় স্থানীয় সরকারের ৮৭ প্রকল্প

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলার ব্যাপক সড়ক উন্নয়নের জন্য ৮৭টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ‘চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬১৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) শেরেবাংলা নগর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম চট্টগ্রামে এসে ‘উন্নয়নের গণতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র’ সেøাগান সামনে রেখে গ্রামগঞ্জের রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্টসমূহের ব্যাপক উন্নয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গোটা চট্টগ্রামের গ্রামগঞ্জের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ প্রকল্প কর্মকর্তাদের।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় সরকারের হাতে নেওয়া চট্টগ্রামের সব প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করার ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। ইতিপূর্বের প্রকল্পগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে পেরেছি। কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ যাতে না হয়; সেদিকে দৃষ্টি রেখে সার্বক্ষণিক কাজ মনিটরিং করছি।’

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সড়কসমূহ পরিদর্শনে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে উপজেলা অভিমুখে গেলে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মগনামার আঞ্চলিক মহাসড়কে রাস্তা সরু হওয়ায় প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে বাঁশখালী উপজেলার মূল সড়ক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে যেমন বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে; তেমনি বিপাকে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। সেখানে রাস্তার প্রশস্ততা ১৮ ফুট আবার কোথাও ২৪ ফুট।

আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে মিনিবাস চলাচল করে ১৫০ থেকে ১৮০টি। তাছাড়া ট্যাক্সি ৫ হাজার, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও টমটম চলাচল করে ৫ হাজার। এই আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার যাত্রীসাধারণ চলাচল করে। রাস্তা সরু ও ছোট গাড়ি বেশি চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বেশি হয় বলে জানান স্থানীয়রা।

রবিউল আলম নামে এক যাত্রী জানান, প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করতে হয় তাকে। রাস্তা প্রশস্ত না হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা বাস কিংবা অন্যান্য গাড়িকে জায়গা করে দিতে অনেক সময় ড্রাইভারদের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সমীর কান্তি নামে এক শিক্ষক জানান, এই সড়কে চলাচল করতে ভয় করে। তবু ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়।

প্রতিদিন নগরে যাতায়াতকারী রিদুয়ানুল হক বলেন, ‘আমদের বিড়ম্বনার শেষ নেই। শুনেছি এস আলম শিগগিরই এই সড়কে যাত্রী পরিবহনে আসবে। সেটা আমাদের সুখের খবর। কিন্তু তাদের গাড়ি রাস্তার তুলনায় বড় হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে। তাই সড়ক চওড়া করার কথাটি কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখতে হবে। অন্যথায় আমাদের ভোগান্তি শেষ হবে না।’

যাত্রীকল্যাণ পরিষদের মহাসচিব লুৎফুল আজম জানান, যাত্রীরা প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে চলাফেরা করে। এই সড়কে বড় গাড়ির চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আগের চেয়ে বাড়বে, যেটা কোনোভাবে কাম্য নয়।

রাস্তা সরু হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে বাস চলাচল করে বলে জানান আরাকান সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুছা। তিনি বলেন, এই সড়ক প্রশস্ত করা দরকার। শিগগিরই এই সড়ক প্রশস্ত করার জন্য এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগে স্মারকলিপি দেব।

স্থানীয়রা জানান, যত দ্রুত সম্ভব চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় সরকারের হাতে নেওয়া রাস্তাঘাট প্রশস্তকরণ ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, ততই এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বর্তমান হাতে নেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়রা, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপসহ ১৪টি উপজেলার সড়কসমূহকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

"