আমন্ত্রণ পাচ্ছেন প্রণব মুখার্জি, থাকবেন বিভিন্ন দেশের স্পিকার

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসছে

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিবর্ষ) ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ব্যাপক আয়োজনের ব্যাপারে সরকারের সর্বত্রই চলছে প্রস্তুতি, শলা-পরামর্শ। বসে নেই নেই সংসদও। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হচ্ছে বিশেষ অধিবেশন। আর দেশের গন্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও চলছে মহান এই নেতাকে ঘিরে কর্মযজ্ঞ।

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণীয় নয় অবীস্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। আগামী বছরের ২২-২৩ মার্চ বিশেষ এই অধিবেশনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর দিনটি চূড়ান্ত হবে। বঙ্গবন্ধুকে চেনেন-জানেন এমন অতিথিকে বিশেষ অধিবেশনে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। যাদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানকে ঘিরে। এ দৌড়ে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংসদের একটি সূত্র। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রণব মুখার্জির চেয়ে অন্য কেউ বেশি স্মৃতিচারণ করতে পারবেন না।

এছাড়া এমপি-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক কমিটি গঠন হয়েছে। প্রত্যেক কমিটি দু-একটি করে সভা করেছে। প্রকাশনা কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ আলী আশরাফ এবং অডিও ভিজ্যুয়াল কমিটির নেতৃত্বে আসাদুজ্জামান নুর এমপি। আর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফতের বাংলাদেশ আগমণে এর আগে একবার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল বলে সংসদ সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান। তিনি এ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বার বিশেষ অধিবেশন আহবান করা হবে বাঙালির প্রাণের নেতা ও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করতে।

জাতীয় সংসদের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, সারা বছরজুড়ে কর্মসূচী থাকবে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। একটা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংসদ কেন্দ্রিক একাধিক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জাতীয় সংসদের স্পিকার ড শিরিন শারমীন চৌধুরী।

অপর একজন জানিয়েছেন, সংসদের বিশেষ অধিবেশন আগামী ২২-২৩ মার্চ বসতে পারে। সে রকমই প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাচনা করে তারিখটি চূড়ান্ত করা হবে। ওই অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরই মধ্যে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) ১৪১তম সম্মেলনে জন্মশতবার্ষিকীতে অংশ নিতে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সংসদ সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সংসদ ও সংসদ সচিবালয় মিলিয়ে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় এই নেতাকে নিয়ে কী ধরনের প্রকাশনা বের করা হবে এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিচার বিশ্লেষণ। সংগ্রহ করা হচ্ছে সংসদে, সংসদের বাইরে এবং দেশ-বিদেশে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর আলোচিত বক্তব্য যা প্রকাশনা আকারে বের করা হবে। তবে কিভাবে সেগুলো সংগ্রহ করা হবে, কি সেখান থেকে নেওয়া হবে এবং সেখানে কি থাকবে, কি থাকবে না এ নিয়ে কমিটিতে গবেষণা হচ্ছে। আর অডিও-ভিজ্যুয়াল কমিটি তালাশ করছে শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচিত চম্বুক (দেশ-বিদেশ) বক্তব্যের সারসংক্ষেপ। সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে এসব কমিটির সব তথ্য সংগৃহীত হলে সংসদের প্রধান সমন্বয়ক ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে বসবেন। সেখানে চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকার ও আওয়ামী লীগ থেকে গঠিত প্রধান কমিটির সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত নিয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। কারণ কেনো কিছুই যাতে ওভারলেপিং না হয়।

সচিবালয় সূত্র জানায়, মুজিববর্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে যোগদানের জন্য এরই মধ্যে বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো শুরু হয়েছে। সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইপিইউর ১৪১তম সম্মেলনে উপস্থিত অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের স্পিকার ওম বিড়ালা অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর সবাইকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।

সূত্র জানায়, জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংসদের উদ্যোগে পৃথকভাবে দেশি-বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণে সভা-সমাবেশ, বঙ্গবন্ধুর ওপর বিশেষ সেমিনারসহ বছরব্যাপী নানা আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ ভবনের দক্ষিণপ্লাজায় বঙ্গবন্ধু স্মরণে বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হবে। যেখানে বছরব্যপী অনুষ্ঠান হতে পারে। সেখানে ছবি ও ভিডিও প্রদর্শনী রাখার সুযোগ রয়েছে। যেখানে পাকিস্তানের গণপরিষদ, স্বাধীন দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর কাজগুলো ফোকাস করা হবে। একটি রাষ্ট্রের জন্ম, সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু যা কিছু করেছেন তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সংসদে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া বক্তব্যও তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্পিকারের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্পিকারের কাছে বিশেষ উপহার প্যাকেট পাঠানো হবে। ওই প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন, বিভিন্ন প্রকাশনা ও মেমোরিয়াল কয়েনসহ আরো কিছু থাকবে।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, যার জন্য আমাদের এই দেশ, এই সংসদ, যার জন্য আমরা আজকে বিশ্বে মাথাউঁচু করে স্বাধীন জাতি হিসেবে দাঁড়াতে পারি, যাকে ঘিরে বিশ্বে আমাদের আত্মপরিচয়, সেই ক্ষণজন্মা মহান নেতার জীবন ও কর্মকে আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে চাই। এজন্য জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি থাকবে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা ২০২০ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণার পর থেকে বিষয়ে জাতীয় সংসদেও প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচীর পাশাপাশি জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। গঠন করা হয়েছে তিনটি সাবকমিটি।

এরই মধ্যে দুটি সাব কমিটি কাজ করছে মুজিববর্ষের প্রকাশনা নিয়ে। আর আন্তর্জাতিক বিষয়ক আরেকটি সাব কমিটি বিদেশি অতিথিদের তালিকা তৈরি, তাদের আমন্ত্রণ, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

 

"