সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আলাদা ইনস্টিটিউট, একাডেমি ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় সশস্ত্র বাহিনীকে সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সশস্ত্র বাহিনীকে কাজ করে যেতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগও সেনাসদস্যরা বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করছেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সদস্যদের আশ্রয় ও নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়েও তারা প্রশংসনীয় কাজ করছেন। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রশংসা পেয়েছেন।

এ সময় বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হওয়া সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী। সশস্ত্র বাহিনীর নারী সদস্যদেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মিশনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সিলেট, কক্সবাজারের রামু ও বরিশালে পৃথক তিনটি পদাতিক ডিভিশন গড়ে তোলা হয়েছে। বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা ব্যবহারে নৌবাহিনী কাজ করছে। দেশে তাদের যুদ্ধজাহাজ বানানোর কাজ চলছে। বিমানবাহিনীর জন্য বিভিন্ন উন্নত উপকরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তি ও আধুনিক উপকরণের মাধ্যমে প্রতিটি বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আলাদা ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আমাদের মিলিটারি একাডেমি আজ বিশ্বে প্রশংসিত। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। নিজেরা নিজেদের দেশ গড়ে তুলতে চাই। কারো থেকে সাহায্য নিয়ে আর চলতে চাই না। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য সুন্দর ও শান্তির একটি দেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘গুজব ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমি সবাইকে একটা কথা বলব, এই অপপ্রচারে কান দেবেন না। বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষ করে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কাজেই সেটাকে মোকাবিলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছিল, কিন্তু ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তা আবার হারিয়ে ফেলে এবং দেশটি একটি হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের দেশে পরিণত হয়। সেসময় ১৯টি ক্যু সংঘটিত হয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর বহু সদস্য এবং মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করা হয়। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আমরা আবারও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথাকে ফিরিয়ে এনেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মহান দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা দেশ মাতৃকার নানা কাজ যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তাদের সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী যেমন-আধুনিকায়ন, ভৌত এবং অবকাঠামোগত প্রভৃতি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী বিপন্ন এবং অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে। বক্তৃতার শুরুতে শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য এবং খেতাব জয়ী সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানীর চেক এবং উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ এবং ৯ জন সেনাসদস্য, দুজন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমানবাহিনীর সদস্যের হাতে শান্তিকালীন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষযক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবজয়ী ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার-পরিজন এবং ৭ বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়রা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

"