যুবলীগের কংগ্রেস নিয়ে সরগরম রাজনীতিপাড়া

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

আগামী ২৩ নভেম্বর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বৃহত্তর সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস। এই কংগ্রেস সামনে রেখে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। পাশাপাশি রাজনীতির অন্যান্য মহলেও আগ্রহ দেখা গেছে। যুবলীগের কংগ্রেস নিয়ে সরগরম রাজনীতিপাড়া।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলের সংকট কালেও বহু কংগ্রেস করেছে যুবলীগ। তুলে এনেছে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নেতারা বলছেন, ‘বৈরী পরিবেশে’ এবারের কংগ্রেস হচ্ছে। কারণ সরকারের শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে সঠিক নেতৃত্ব তুলে আনার চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে কংগ্রেসে।

ক্যাসিনোকান্ডে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে যুবলীগের হাইকমান্ড। সংগঠনটিকে নেতিবাচক ধারা থেকে ইতিবাচক ধারায় ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই একদিকে চলছে শুদ্ধি অভিযান; অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের খোঁজ। সংগঠনটির এই ক্রান্তিকালে কারা আসছেন নেতৃত্বে, এ নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সবখানে।

তবে ক্লিন ইমেজ ও সাবেক ছাত্রনেতারা এবারের সম্মেলনে এগিয়ে থাকবে বলে জানা গেছে। দুঃসময়ের সঠিক নেতৃত্ব আনতে চায় যুবলীগের কংগ্রেস।

দলীয় সূত্র জানিয়েছেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মণির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও তার ছোট ভাই ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, বর্তমান কমিটির সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আতাউর রহমান আতা, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেন।

তবে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ ফজলে নূর তাপস সরকারের সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাই বড় ভাই শেখ ফজলে শামস পরশ যুবলীগের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা বেশি।

আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনজুর আলম শাহীন ও প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু।

আলোচনায় থাকা কেন্দ্রীয় যুবলীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি ১৯৯৪-১৯৯৮ মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২৯৯৮-২০০৩ সালে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ২০০৩- ২০১২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন।

নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন আহমেদ মহি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা চাই যোগ্য, স্বচ্ছ ও পরিছন্ন ব্যক্তিরা নেতৃত্বে আসুক। তবে নেত্রী যাকে যুবলীগের নেতৃত্বে আনবেন, সেটাই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

দলীয় তথ্য বলছে, এবারের সম্মেলনে আওয়ামী পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধার চেতনা বিশ্বাসীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। বরাবরের মতো শেখ হাসিনার আগ্রহ ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বের প্রতি। আলোচনায় রয়েছেন ছাত্ররাজনীতি থেকে আসা শাহীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তৃণমূল থেকে আসা ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ এবং ১৯৯৬তে বিএনপি জামায়াতবিরোধী আন্দোলনসহ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথের সৈনিক ছিলেন। অন্যদিকে ইকবাল মাহমুদ বাবলু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার আগে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাধারণ সম্পাদক। ছাত্রজীবনে মামলা-হামলার শিকার হলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। আওয়ামী পরিবার থেকে আসা ক্লিন ইমেজের অধিকারী বাবলু আওয়ামী ছাত্ররাজনীতির দুঃসময়ে সংগঠনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১/১১তে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথের কর্মী হিসেবে পরিচিত ইকবাল মাহমুদ বাবলু প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সৎ, মেধাবী, প্রতিশ্রুতিশীল এবং ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ নেতারাই যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আর ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতৃত্বকে দায়িত্ব দিলে যুবলীগ তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, অর্থ সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হালদার ও ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এন আই আহমেদ সৈকতের নামও শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন।

যুবলীগের নেতৃত্বের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, দুর্দিনের ত্যাগী কর্মী এবং পরীক্ষিত, একই সঙ্গে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি আছেÑ এসব বিষয় যুবলীগের নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানদন্ড হিসেবে বিবেচনায় থাকবে।

এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, এবারের যুবলীগের জাতীয় সম্মেলনে নানা অভিযোগের দায়ে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে না।

"