সংসদে প্রধানমন্ত্রী

অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তর থেকে অপরাধ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। এজন্য দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক ব্যক্তি ছাড়াও সরকারি কর্মচারীসহ জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্নীতির বিষবৃক্ষ সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলে একটি সুশাসনভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে সংসদ নেতা বলেন, ক্যাসিনো ও দুর্নীতির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ যাতে কেউ আর করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলন-নির্বাচনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটসহ একটি বিশেষ মহল রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে একটি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ঠিক রোহিঙ্গা সমস্যা সৃষ্টির পেছনে জিয়াউর রহমানের একটি হাত রয়েছে। কিন্তু আমরা সব সমস্যা শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে বিশ্বাসী। তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিষ্কার অবস্থান হচ্ছে, যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বা একটি জিনিস স্পষ্ট বলতে চাইÑ বাংলাদেশের মাটিতে আমরা কোনো দেশের বা প্রতিবেশী কোনো দেশে কেউ কোনো রকমের সন্ত্রাসী কর্মকা- চালায় বা কোনো রকম সন্ত্রাসী তাদের কোনো অবস্থান বাংলাদেশের মাটিতে হবে না, এটা থাকবে না। এ ব্যাপারটা আমরা নিশ্চিত করেছি।

সংসদ নেতা বলেন, বাংলাদেশের মাটিকে কাউকে ব্যবহার করতে দেব না। আমাদের দেশে থেকে অন্য দেশে কোনো রকম সমস্যা বা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাক সেটা আমরা কখনো স্থান দেইনি, দেব না। বাংলাদেশ সব সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায়, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ এই নীতিতে আমরা বিশ্বাস করি।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এই দুটি দেশের সঙ্গেই আমরা আলোচনা করেছি, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তারাও চেষ্টা করছে। শুধু ভারত বা চীনই নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে যেসব দেশের স্থলসীমানা রয়েছে (ভারত-চীন-থাইল্যান্ড-লাওস) সেসব দেশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার রাজি হয়েছে এবং একটি চুক্তিও করেছে। কিন্তু একটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গারা দেশটিতে ফেরত যেতে চাচ্ছে না। এটি এখন মিয়ানমান সরকারের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) ফেরত যাওয়ার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ থাকবে সেই বিশ্বাসটি আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্টি করা তাদেরই (মিয়ানমার) দায়িত্ব।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অর্থাৎ দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পদের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র প্রেরণ করেছে।

সংসদ নেতা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এরূপ অভিযান অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশন সর্বদাই বদ্ধপরিকর। তাছাড়া বাংলাদেশের কোনো কোনো ব্যক্তি সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলেছে, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন সিঙ্গাপুর সরকারকে অনুরোধ করেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সব ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এরই মধ্যে দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যা যা করার তা করে যাচ্ছি, করে যাব। গত ১০ থেকে ১১ বছর আগে দেশের কী অবস্থা ছিল একটু বিবেচনা করুন। আগে মানুষ এক বেলা খেতে পর্যন্ত খেতে পারত না। কিন্তু গত এক দশকে দেশের চেহারাই পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের সুফল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমার নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রয়োজনে বাবার মতো আমিও জীবনকে উৎসর্গ করব।

"