কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনা

১৬ জনের প্রাণহানিতে মামলা

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আখাউড়া জিআরপি থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরী। মামলায় উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা তূর্ণা নিশীথা হোম ও আউটার সিগন্যাল অমান্য করে চলায় দুর্ঘটনা ঘটে। গত মঙ্গলবার রাতে এই মামলাটি করা হয়। এদিকে, ট্রেন দুর্ঘটনা তদন্তে গঠিত একটি কমিটি প্রাথমিকভাবে ১০ কারণ খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে একটি কারণকে চিহ্নিত করে আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া তদন্তে গঠিত আরো চারটি দলও কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার বিকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত দল মন্দবাগ আসেন। তারা আউটার ও হোম সিগন্যালে কোনো ত্রুটি ছিল কি না সে বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখেন। তারা ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন এবং স্টেশন মাস্টার মো. জাকের হোসেন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কক্ষে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র দেখেন। কয়েকটি সঙ্গে করেও নিয়ে যান। পরে রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আরেকটি তদন্ত কমিটির প্রধান বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (পূর্ব) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ভোরের সয়মটাতে পরিস্থিতি কেমন সেটা আমরা ঘুরে দেখেছি। দুর্ঘটনার ১০ কারণ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি কারণ চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবার (আজ) প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। চালকের ভুলের পাশাপাশি, সিগন্যালের ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত কারণ এসবের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রেলওয়ের প্রধান সংকেত এবং টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ আবুল কালাম, যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) মোসাম্মৎ রশিদা সুলতানা গণি ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর হোসেন।

ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন কমিটির সদস্যরা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান মিতু মরিয়ম জানান, গত মঙ্গলবার থেকেই আমরা তদন্ত কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা রেসপন্ড করেছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমাদের তদন্ত কাজ চালু আছে। এখন পর্যন্ত আমরা চূড়ান্ত কিছুতে আসতে পারিনি। কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে সেটি আমাদের এখনো বলা হয়নি। সেটি জানার পর আমরা বলতে পারব কবে প্রতিবেদন জমা দেব।

আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা : আহতদের চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে রেলওয়ের পক্ষ থেকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি একজন আহতের কাছে গতকাল দুপুরে এই টাকা তুলে দেন রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা শওকত হোসেন মহসীন।

এ সময় তিনি জানান, আহত সবাই ১০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহকারী বাণিজ্য কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম সাজ্জাদ।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঢাকাগামী তূর্ণা নিশিথার সঙ্গে চট্টগ্রাম অভিমুখী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে ১৬ যাত্রী নিহত হন। আহত হন শতাধিক যাত্রী। আহতদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, কুমিল্লা হাসপাতালে ১৩ জন এবং কসবা ও আখাউড়া হাসপাতালে ২ জন করে ভর্তি হন। এর বাইরে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আহতরা। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে প্রথমে পিকআপ ভ্যানে করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।

"