বুলবুলের তাণ্ডবে নিহত ১৪

৪-৫ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, ৩ লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে ১৪ জন মারা গেছে। এ সময় কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পটুয়াখালীতে একজন, খুলনায় দুজন, বাগেরহাটে দুজন, বরিশালে একজন, বরগুনায় একজন, শরিয়তপুরে দুজন, গোপালগঞ্জে দুজন এবং পিরোজপুরে একজন মারা গেছেন। এর বাইরে পটুয়াখালীতে ও মাদারীপুরে একজন করে মৃত্যুর খবর জানা গেছে।

এদিকে সরকারি হিসাবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তা-বে ৪ থেকে ৫ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এ তথ্য জানান। এদিকে খুলনা জেলা প্রশাসন ও দাকোপ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২৬৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পুকুর ও মাছের ঘের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে গোটা খুলনা জেলা। মহানগরীতেও অনেক বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কসহ আরো অনেক সড়ক।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৬ জেলার ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে। তবে কী পরিমাণ জমির ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে, তা এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চন্ডী দাস কুন্ডু। প্রতিদিনের সংবাদের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ডা. আয়শা আক্তার বলেন, বরগুনা সদরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হালিমা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি জানান, আহত ২৫ জনের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। হাসপাতালে ভর্তি আছে ১৯ জন। তিনি জানান, পটুয়াখালী ও বাগেরহাটে আশ্রয়কেন্দ্রে দুই নবজাতকের জন্ম হয়েছে। নবাগতরা সুস্থ রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবাকর্মীরা নতুন দুই অতিথিকে সেবা দিচ্ছে। এই দুই নবজাতকের নাম ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সঙ্গে মিলিয়ে ‘বুলবুলি’ রাখা হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় ঘরচাপা পরে কিশোরী সামিয়া আক্তারের (১৫) মৃত্যু হয়েছে। এ সময় দুজন আহত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভরসাপুর গ্রামে ঝড়ের সময় বসতঘরের ওপর গাছ পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সামিয়া রামপাল উপজেলার দর্পনারায়ণপুর গ্রামের বাবুল শেখের মেয়ে। সে উজলকুর ইউনিয়নের ভরসাপুর গ্রামের দুলাভাই আবদুর রাজ্জাকের বাড়ি বেড়াতে আসছিল।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ জানান, নিহত কিশোরীর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬০ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হবে। বরিশালের উজিরপুর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঘরের ওপর গাছ পড়ে বৃদ্ধ আসমত মজুমদারের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। তিনি উজিরপুর পৌরসভার দক্ষিণ মাদাসী গ্রামের বাসিন্দা। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার জানিয়েছেন। তিনি জানান, ঝড়ের বৃদ্ধ আসমত মজুমদার নিজ ঘরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তার ঘরের পাশের বড় গাছ ভেঙে ঘরের চালে পড়ে। এতে ঘর ভেঙে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা সুস্থ রয়েছেন। বিকাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মাদারীপুর সদর উপজেলায় ঘরের মধ্যে আলমারিতে চাপা পড়ে গৃহবধূ সালেহা বেগমের (৪০) মৃত্যু হয়েছে। সালেহা বেগম উপজেলার ঘটমাঝি গ্রামের আজাদ খায়েরের স্ত্রী। মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন গিয়াস জানান, বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবু?লের প্রভা?বে সা?লেহা বেগমের ঘ?রের এক?টি আলমা?রি তার গা?য়ের ওপর প?ড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত তা?কে সদর হাসপাতা?লে নি?য়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা ক?রেন। তিনি জা?নান, নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন। ঝড়ে জেলার চারটি উপজেলার বিভিন্নস্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হওয়ায় ‘বুলবুল’ নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তার দাপট বাংলাদেশের মানুষ ততটা অনুভব না করলেও এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু কৃষক, মৎস্য খামারিসহ গ্রামের দরিদ্র লোকজন। আর কয়েকটি দিন গেলেই ধান কেটে ঘরে আনার আশা করছিলেন কৃষক, জমি লিজ নিয়ে পানের বরজ করেছিলেন অনেকে, কেউ করেছিলেন মাছের খামারÑ এ রকম বহু মানুষ ঝড়ের তা-বে দিশাহারা।

গত রোববার ভোররাত থেকে কয়েক ঘণ্টা এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব তাৎক্ষণিকভাবে করতে পারেনি সরকারি কোনো দফতর। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ১৬ জেলার ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে রোপা আমন, খেসারি ও পানের বরজসহ রবি শস্য ও শীতকালীন সবজি রয়েছে।

ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার বেগের বাতাসের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ সময় গত শনিবার রাত ৯টায় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সাগর দ্বীপ উপকূলে আঘাত হানে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। গত রোববার ভোর ৫টার দিকে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছায়; শক্তি হারিয়ে সকালে বুলবুল পরিণত হয় গভীর স্থল নিম্নচাপে। ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর এসেছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ফসলেরও ক্ষতি করে দিয়ে গেছে, খুলনার দাকোপের বানিশান্তা ইউনিয়নে এমন অনেক আমনখেতে শুয়ে পড়েছে ধান। সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরিশাল, বরগুনা, ফেনী, পিরোজপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক চন্ডী দাস কুন্ডু গত রোববার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ১৬ জেলায় ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর ফসলি জমি আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। তবে ঠিক কী পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে, তা সঠিকভাবে নিরুপণ করতে আরো কয়েক দিন লাগবে। এ সময়ে মাঠে রয়েছে প্রধানত রোপা আমন ফসল। রোপা আমনের মধ্যেই সাথী ফসল হিসেবে রয়েছে খেসারি। এ ছাড়াও সরিষা, মাসকলাইসহ কয়েক ধরনের রবি ফসল এবং শীতকালীন সবজি ও পানের বরজ আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান চন্ডী দাস।

চন্ডী দাস কুন্ডু বলেন, কোনো কোনো জায়গায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে খেসারি মারা যাবে। আবার ছয় থেকে সাত দিন যদি পানি জমে থাকে তাহলে ধান গাছও মারা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে সারা দেশে এবার ৬৯ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়ে আক্রান্ত ১৬ জেলায় চাষ হয়েছে ১৬ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে। চন্ডী দাস কুন্ডু বলেন, ১৬ জেলায় আক্রান্ত হওয়া ২ লাখ ৮৯ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ১০ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। তবে ধান গাছ যেন নষ্ট না হয় সেজন্য কৃষকদের কয়েকটি ধানগাছ একসঙ্গে গোছা বেঁধে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে। এ পদ্ধতিতে ডুবে যাওয়া ধানগাছ পচন থেকে রক্ষা করা যাবে বলে বলে জানান চন্ডী দাস।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ভাউড়িরচর গ্রামের কৃষক নাজির শেখ জানান, তার পানের বরজে প্রচ- ক্ষতি হয়েছে। লাখ টাকা খাটিয়ে এক বিঘা জমিতে বরজ করেছিলেন, যা সম্পূর্ণ পড়ে গেছে। একই গ্রামের নেপাল চন্দ্রের ২৬ শতক জমির পানের বরজ এবং মিলন চন্দ্র দাসের ২৪ শতকের মতো বরজের পান শুয়ে পড়েছে। পাশের রায়পুর গ্রামের জাফর গাজীর পানের বরজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে ঘর ভেঙেছে ভাউড়িরচর গ্রামের আছাদ খানের। আছাদ খানের ওই এলাকার মাঠের অনেক জমির আমন ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আর কিছুদিন পরেই আমন ধান কাটা যেত। কিন্তু সকালে ঝড়ের কারণে বহু ধানখেত শুয়ে গেছে। এখন তো গরিব কৃষকদের সর্বনাশ হয়ে গেল। ঝড়ে আমার একটা ঘরও পড়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস জানান, সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এই জেলার ২৫ হাজার হেক্টরের আমন ধান, ১ হাজার ২০০ হেক্টরের সবজি, ৫০০ হেক্টরের সরিষা, ২০০ হেক্টর কুল বরই ও ১২০ হেক্টরের জমির পান আক্রান্ত হয়েছে। তবে ব্যাপক মাত্রায় ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার হেক্টরের আমন, ৮৪০ হেক্টরের সবজি, ৫০০ হেক্টরের সরিষা, ৬০ হেক্টরের পান ও ১০০ হেক্টর জমির কুল। ঝড়ের সময় এই ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন দাঁড়ানো ছিল বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, জেলার কালীগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগরে ৫১৭টি পুকুর-দীঘি, ৪১৪ টন চিংড়ি ও অন্যান্য মাছের পোনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক খলিলুর রহমান জানান, তার পাঁচ বিঘার আমনখেত পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। আর ২০ দিন পর এই ফসল ঘরে তোলা যেত। একই এলাকার আবুল হোসেন জানান, তার আট বিঘা জমির ধান কাটার পর্যায়ে ছিল। দুই-এক দিনের মধ্যেই এটা ঘরে তোলা যেত। কিন্তু ঝড়ে সব শুয়ে পড়েছে।

ঝড়ের প্রভাবে ভোলায় প্রবল বর্ষণ ও দমকা বাতাসে আমন ধান ও খেসারির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় আমন আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ হেক্টর, এর মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর। শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৭৪২ হেক্টর, যার ৯০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খেসারির আবাদ হয়েছে ৫৩৬ হেক্টর, যার ৯০ ভাগ সম্পূর্ণ আক্রান্ত এবং পান আবাদ হয়েছে ৫৩৬ হেক্টর, যার মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ১৩৪ হেক্টর। দুর্যোগ কবলিত ফসলের মধ্যে আমন ধান ১০ ভাগ, শীতকালীন সবজি ও ডাল ৯০ ভাগ এবং পান ২৪ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ভোলা সদরের ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক সিরাজ উদ্দিন বলেন, বেশির ভাগ ধান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অধিকাংশ হেলে পড়েছে। এখানে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বিনয় কৃষ্ণ ক্ষয়ক্ষতির এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। আগামী দুই দিনের দিনের মধ্যে জেলার ফসলের ক্ষয়ক্ষতির সুস্পষ্ট তথ্য দেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

মৎস্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রমজান আলী বলেন, পিরোজপুর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক একটা চিত্র পাওয়া গেছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি আরো বেশি বলেই মনে হচ্ছে। এসব জেলার ১৪ হাজার ৮৫৮টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খামারের আয়তন ৯৩০০ হেক্টর। খামারের ৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১০৫ কোটি টাকা। আর অবকাঠামো ক্ষতি হয়েছে ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকার। মৎস্য খামারের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব খামারে লোনা পানি ঢুকে সয়লাব হয়ে গেছে।

"