পঞ্চগড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই দম্পতিসহ নিহত ৭

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

পঞ্চগড়ে বাসচাপায় ইজিবাইকের চালকসহ মারা গেছেন সাতজন। এদের মধ্যে দুই দম্পতিও রয়েছেন। এ ছাড়া লালমনিরহাটে ট্রাকচাপায় খায়রুল ইসলাম নামে (৩৫) এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে বাসচাপায় ইজিবাইকের চালকসহ মারা গেছেন সাতজন। গতকাল শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়কের মাগুরমারী চৌরাস্তা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর ভজনপুর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পঞ্চগড় থেকে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জনতার রোষানলে পড়েন তারা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ লোকজন অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার পরই বাসের চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যায়। হাইওয়ে পুলিশ বাসটি আটক করেছে।

নিহতরা হলেন তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের মাঝিপাড়া এলাকার ডাকবদলি গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে লাবু (২৭) এবং তার নব বিবাহিত স্ত্রী মুক্তি (১৮), পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের চেকরমারী গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে অটোচালক রফিক (২৮), একই উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের সুরিভিটা বদিনাজোত গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আকবর আলী (৭০) ও তার স্ত্রী নুরিমা বেগম (৫৭), সাতমেরা ইউনিয়নের রায়পাড়া গ্রামের মফিজউদ্দিনের ছেলে মাকুদ হোসেন (৪৩) এবং একই ইউনিয়নের সাতমেরা ইউনিয়নের সাহেবীজোত গ্রামের আকবর আলীর স্ত্রী নার্গিস (৪০)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে কাজী এন্টারপ্রাইজের একটি যাত্রীবাহী বাস পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়া যাচ্ছিল। বাসটি পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের আমতলা স্থানে পৌঁছালে একটি ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে ভজনপুর থেকে জগদলের দিকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। এ সময় বাসের নিচে আটকে থাকা ইজিবাইকটিকে প্রায় ১০০ গজ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় পাঁচজন। আহত দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারাও মারা যায়।

সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, দুর্ঘটনার পরই বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। জেলা প্রশাসকসহ আমি সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করার পর তারা আশ্বস্ত হয়ে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। ঘটনার পরই চালক পালিয়ে যাওয়ার কারণে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বাসটি আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ট্রাকচাপায় খায়রুল ইসলাম নামে (৩৫) এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী শস্যগুদাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত খায়রুল ইসলাম পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রংপুর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন খায়রুল ইসলাম। এ সময় হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী শস্যগুদাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লালমনিরহাটগামী একটি পণ্যবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। দেহ থেকে মাথা ছিন্নভিন্ন হওয়ায় প্রথম দিকে স্থানীয়রা তার পরিচয় শনাক্ত করতে না পারলেও পরবর্তীতে তার পরিবারের লোকজন পরিচয় শনাক্ত করেন। এ সময় ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে যায়। হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

"