পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিলেন শ্যামবাজারের পাইকাররা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাস খানেকের বেশি অস্বাভাবিক দাম চলার পর এতে লাগাম টানতে পেঁয়াজের দাম বেঁধে দিয়েছেন ঢাকার প্রধান পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের ব্যবসায়ীরা। এই পদক্ষেপের ফলে নতুন পেঁয়াজ উঠার আগে অস্থিরতার এই শেষ পর্যায়ে এসে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে পেঁয়াজের দাম নির্ধারণের জন্য জরুরি বৈঠকে বসে আড়তদার সমিতি। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, গতকাল শুক্রবার থেকে আপাতত মিসর, চীন ও তুরস্কের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি করেছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। সমিতির সহসভাপতি হাজি আবদুল মাজেদ বলেন, সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার অস্থিতিশীল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু এর জন্য আড়তদারদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। প্রচুর বদনাম রটানো হচ্ছে। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আলোচনা করে মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছি। এই কাজটি আরো এক মাস আগে করতে পারলে আরো ভালো হতো। শ্যামবাজারের মতো ঢাকার অন্যান্য পাইকারি বাজার এবং চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বাজারেও একই ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা দেখতে গতকাল শ্যামবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযানে যায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। এদিন মাত্র চারটি আড়ত ছাড়া অধিকাংশ আড়তেই বেঁধে দেওয়া দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে জানান অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার ম-ল।

তিনি বলেন, অধিকাংশ দোকানেই সঠিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করছিল। কেবল চারটা দোকানের মধ্যে ঝামেলা পেয়েছি। এদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এক দোকানে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য লেখা ছিল প্রতি কেজি ৯০ টাকা। কিন্তু তারা বিক্রি করছিল ১০৬ টাকায়। অন্য তিনটি দোকানে মিসর, তুরস্ক ও চীনের পেঁয়াজ বিক্রি করেছে ৮০ টাকায়। যদিও তারা নিজেরা সর্বোচ্চ মূল্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। তবে প্রধান পাইকারি বাজার উদ্যোগ নিলেও কারওয়ানবাজারসহ অন্য বাজারগুলোতে দেখা যায়নি এ ধরনের পদক্ষেপ। তাৎক্ষণিকভাবে খুচরাতেও এর প্রভাব পড়েনি।

কারওয়ানবাজারে এদিন পাবনা অঞ্চলের ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১২৪ টাকা। এ ছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ১০৯ টাকা, মিসরের পেঁয়াজ ৮০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মিরপুর বড়বাগ কাঁচাবাজারের আল মদিনা স্টোরের হেলাল মাহমুদ বলেন, তারা মিরপুর-১ নম্বর থেকে মাঝারি মানের ‘কিং’ জাতের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে কিনে বিক্রি করছেন ১৩০ টাকায়। এই বাজারে প্রতি কেজি ১১০ টাকায়ও দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে; যেগুলো আকারে ছোট এবং মানের দিক থেকে দুর্বল।

মিরপুর-১ নম্বর বাজারের পাইকারি বিক্রেতা পলাশ সাহা জানান, এই বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরেই পাইকারিতে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে পেঁয়াজের বিক্রি ব্যাপক হারে কমেছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন বিক্রেতা। বড়বাগের মুদি দোকানি হেলাল মাহমুদ বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন এক বস্তা বা ৪০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ কেজি। কারওয়ানবাজারের পাইকারি বিক্রেতা আবদুল আওয়াল বলেন, এখন দৈনিক চার থেকে পাঁচ বস্তা (প্রতি বস্তায় ৪০ থেকে ৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে না। অথচ আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ বস্তা বিক্রি হতো।

"