নতুন পুরোনোয় মিলন হবে দলের ‘হৃৎপিণ্ড’

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে আগেই। এখন চলছে দলের ‘হৃৎপি-’খ্যাত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ঘিরে আলোচনা। এবার সম্মেলনের মাধ্যমে দেখা যেতে পারে নতুন-পুরোনোদের মিলনমেলা। ফলে এই দুই ইউনিটের শীর্ষ পদেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা প্রবল।

দলীয় হাইকমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জাতীয় নির্বাচনসহ দলের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র ঠেকাতে এই দুই ইউনিটের নেতাকর্মীরা বিরাট ভূমিকা রাখেন। তাই এবার নেতৃত্বে আসতে পারেন ত্যাগী ও পোড়খাওয়া নেতারা। এরই মধ্যে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী নেতাদের তালিকা তৈরি করে রেখেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কাউন্সিলের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একটি চ্যালেঞ্জিং কমিটি উপহার দিতে চান। তাই নতুন নেতৃত্বের খসড়া তালিকাও প্রস্তুত করে রেখেছেন।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে ও সময় অনুযায়ী সম্মেলন না হওয়ায় মহানগরের অনেক নেতার বিরুদ্ধে নিজের পদের অপব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। তবে সরকারের শুদ্ধি অভিযানে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে নিয়েছেন দলীয় সভাপতি। বিগত তিন বছরে নেতাকর্মীদের সার্বিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড সন্তোষজনক ছিল না। এর মধ্যে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ততা, চাঁদা ও টেন্ডারবাজি, অনুপ্রবেশকারী, ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থের বিনিময়ে কমিটিতে পদায়নসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জাড়িত থাকার অভিযোগ হাইকমান্ডের হাতে। অভিযুক্ত কেউই মহানগরের কমিটিতে স্থান পাবেন না। ফলে ত্যাগী ও পোড়খাওয়া এবং ক্লিন ইমেজের নেতারা মহানগরের নেতৃত্বে¡ আসতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। নিয়মিত সভাপতির কার্যালয়ে যাতায়াতসহ দলীয় হাইকমান্ডের দুয়ারেও ধর্ণা দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বিদেশেও লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলীয় তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সিনিয়র সহসভাপতি আবু আহাম্মেদ মান্নাফি ও সহসভাপতি আবুল বাশার। বাশার রমনা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘদিন। এ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দিলিপ রায়, প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেনও আলেচনায় রয়েছেন।

এ ছাড়া তরুণ নেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষপদে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ওমর বিন আজিজ তামিম। বিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মরহুম এম এম আজিজের বড় ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তামিম তরুণ নেতা হিসেবে আলোচনায় আছেন। লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী তামিমের দাদা মরহুম পিয়ারো সরদার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার তৈরি করেছিলেন। জানতে চাইলে তামিম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমরা পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে আছি, থাকব।’ আগামী দিনে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করবেন, আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ছাড়া থানা নেতাদের মধ্যে আলোচনায় আছেন ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী আবু সাঈদ।

অন্যদিকে ঢাকা মহানগরে উত্তরের আওয়ামী লীগে বেশ আলোচনায় রয়েছেন সভাপতি হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। তবে তিনি এবার এমপি হওয়ায় সাংগঠনিক পদ থেকে সরে আসার কথা রয়েছে। বর্তমান কমিটির সহসভাপতি শেখ বজলুর রহমান আলোচনায় আছেন। তিনি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুবার সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ কাদের খান, সহসভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আসলামুল হক সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন।

মহানগর উত্তরে সাধারণ সম্পাদকের আলোচনায় আছেন দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি ও হাবিব হাসান। দুজনই ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে পরিচিত। এস এম মান্নান কচি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব হাসান ১৯৮৮ সালে হরিরামপুর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মূল দলে রাজনীতি শুরু করেন। পরে সাতটি থানা নিয়ে গঠিত বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। ঢাকা মহানগর ভাগ হলে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ ছাড়া ঢাকা-১৮ আসনে এলাকার প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে পারেন।

শীর্ষপদে আলোচনায় রয়েছেন যুবলীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবুল বাসার। তিনি উত্তর যুবলীগের ১৩ বছর সভাপতি ছিলেন। দুইার আওয়ামী লীগের মনোনয়নও পেয়েছিলেন তিনি। আলোচনায় আরো আছেন বর্তমান কমিটির দফতর সম্পাদক সাইফুল্লা সাইফুল। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতিও ছিলেন। তিনি ১/১১তে শেখ হাসিনা মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে ছিলেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রতিবার পরিবর্তন আসে। এবার নতুন-পুরোনো সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। এবারও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি চমকপ্রদ কমিটি দেবেন।

"