আজ কৃষক লীগের সম্মেলন

নেতৃত্বে আসছেন যারা

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ৮ বছর পর আজ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হচ্ছে। সম্মেলন ঘিরে সংগঠনে দেখা দিয়েছে আশা-উদ্দীপনা। এরই মধ্যে সব আয়োজন সমাপ্ত হয়েছে। সংগঠনের নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন সে বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে চূড়ান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নানা কারণে বিতর্কিত বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা নতুন কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে এবার শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাই বেশি।

আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে কৃষক লীগের সম্মেলন প্রথমে হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের নেতারা। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের ১০ম সম্মেলনের মঞ্চ সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এ বিষয়ে কৃষক লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বিটু প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আমরা সারা ঢাকা শহরে প্রচারণা চালিয়েছি। কৃষক লীগ যেহেতু গ্রামের সংগঠন সেহেতু জেলাগুলোতে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কাউন্সিলরের কাজ, আমন্ত্রণপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে। মঞ্চ প্রস্তুতের কাজও শেষ।

দলীয় তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবে জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোও ঝিমিয়ে পড়ে। সারা দেশে ধানের দাম কম হওয়ার পরও তেমন কোনো কর্মসূচি ছিল না কৃষক লীগের। জানা গেছে, দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কৃষক লীগের দায়িত্বে থেকেও সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা আবারও আগামী কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে চান। তবে সংগঠনটি গতিশীল না হওয়ার জন্য তাদেরই দুষছেন অনেকে।

এখন সংগঠনের সভাপতি পদে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ওমর ফারুক। ১/১১ এর আমলে শেখ হাসিনা কারাগারে থাকাকালে কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এ ছাড়া রয়েছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু, সহ-সভাপতি শরীফ আশরাফ হোসেন। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশাও বেশ আলোচনায় রয়েছেন। তিনি এর আগে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সংগঠনের সভাপতি পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে। তিনি সংগঠনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সমীর চন্দ্র নামও শোনা যাচ্ছে।

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। ১/১১ প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বিটু। এতে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নজরে পড়েন। এর পর তিনি রংপুরের বদগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আবুল হোসেন, কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট, কাজী জসিম, আতিকুল হক আতিক, আসাদুজ্জামান বিপ্লব। এদের মধ্যে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ সাখাওয়াত হোসেন সুইট শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লব এর আগে কৃষক লীগের সহ-দফতর সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস ছিলেন। কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন এর আগে কৃষক লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী জসিম উদ্দিন এর আগে কৃষক লীগের পানি ও বিদ্যুৎবিষয়ক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আগামী নেতৃত্বের ব্যাপারে ওমর ফারুক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছেন তাতে ক্লিন ইমেজের সৎ ও যোগ্যরাই কৃষক লীগের নেতৃত্বে আসবে। সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন সৎ ও ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চান, আমরাও তেমনই নেতৃত্ব চাই। পরিচ্ছন্ন ইমেজের দায়িত্বশীলরা নেতৃত্বে এলে কৃষক লীগ আরো উজ্জল হবে। তারাই কৃষক ও দেশের মাটি-মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির কার্যক্রমে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। প্রায় ৮ বছর পরে আজ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের আশা করছেন নেতাকর্মীরা।

"