ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা

দাবি ১১ দফা : পৃষ্ঠা ১০

প্রকাশ : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

বলা নেই, কওয়া নেই, পূর্ব কোনো ঘোষণাও নেই। কাল ভরদুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কার্যালয়ে আচমকা ভিড় বেড়ে গেল ক্রীড়া সাংবাদিকদের। ক্রিকেটাররা নাকি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন! খবরটা মুহূর্তেই মিরপুরের বাতাসে মিশে ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। খানিক বাদে মিলল ঘটনার সত্যতা। চলমান জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) সম্মানী বাড়ানোসহ আরো বেশ কিছু দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা এমন একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। বলাবলি হতে লাগল, দাবি পূরণ না হলে ক্রিকেটাররা নাকি আসন্ন ভারত সফর বর্জনও করতে পারেন!

আকস্মিক সেই সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেন, এনামুল হক জুনিয়ররা জোট বেঁধে এলেন। জানিয়ে দিলেন ভারত সফর বয়কটের কথা! ক্রিকেটাররা ১১টি দাবি জানিয়েছেন বিসিবির কাছে। এসব দাবি ন্যূনতম সময়ের মধ্যে পূরণের নিশ্চয়তা না পেলে ক্রিকেটাররা সামনের সময়গুলোতে কোনো ধরনের ক্রিকেট না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ধর্মঘটের জেরে আসছে নভেম্বরে ভারত-বাংলাদেশ সিরিজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। ওই সফরে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সাদা পোশাকের এই সিরিজের মধ্য দিয়ে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে যাত্রা করত বাংলাদেশ। এ ছাড়া আগামী ২৪ অক্টোবর এনসিএলের তৃতীয় রাউন্ড এবং ২৫ অক্টোবর থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্পও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আন্দোলনরত ক্রিকেটারদের মুখপাত্র হিসেবে বলেন, ‘দাবি-দাওয়া পূরণ না হলে ক্রিকেটাররা কোনো ধরনের ম্যাচে অংশ নেবেন না। তবে সামনে যেহেতু অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ আছে, তাই তাদের (আন্দোলনের) আওতার বাইরে রাখা হলো।’ একটু পরে ফের সাকিবের হুশিয়ারি-বার্তা, ‘যত দিন পর্যন্ত আমাদের এসব দাবি-দাওয়া পূরণ করা হবে না, তত দিন আমরা কোনো ধরনের ক্রিকেটে জড়িত থাকতে চাই না।’

এনসিএলে ম্যাচ ফি নিয়ে ক্রিকেটাররা যে সন্তুষ্ট নন, সে খবর কদিন আগেই চাউর হয়েছিল। তবে দুই রাউন্ড খেলার পর এ বিষয়সহ আরো বেশ কয়েকটি ইস্যুতে ‘বিদ্রোহে’ নামলেন দেশের ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখরা। এর আগে ২০১৭ সালের মে মাসে বেতন কাঠামো নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে টানাপড়েনের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা। এমনকি মহামর্যাদার অ্যাশেজ সিরিজ বর্জনের কথা জানিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) খেলোয়াড়দের সব দাবি-দাওয়া অচিরেই মেনে নেওয়ায় খুব বেশি জলঘোলা হয়নি। এবার বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এই খেলাটির খেলোয়াড়দের ফেরাতে বোর্ড তথা সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেÑ এখন সেটাই দেখার।

"