রাজধানীর ফুটপাত হকারমুক্ত হচ্ছেই না

দক্ষিণে উচ্ছেদ মাঝেমধ্যে উত্তরে লাগাতার

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা এবং হকার সরাতে অভিযান চালাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। তবে ঢাকা উত্তর সিটির অভিযান নিয়মিত হলেও দক্ষিণে মাঝেমধ্যে হয়। উত্তরের ফুটপাত কিছুটা মুক্ত হলেও দক্ষিণ ফিরছে আগের অবস্থানে; হকারমুক্ত হচ্ছে না কোনোভাবেই। ফলে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে ভোগান্তি এখনো নিত্যসঙ্গী।

রাজধানীতে দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন হকাররা। অনেকে ফুটপাতে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিয়েই দিনের পর দিন ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এই অবস্থার মধ্যেই সম্প্রতি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ফুটপাত প্রশস্ত ও উন্নয়ন করলেও হকাররা আগের মতোই ব্যবসা করতে থাকেন। এতে জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক বিঘœ ঘটে। পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তারা।

পথচারীর চলাচলে নির্বিঘœ ঘটাতে এবং যানজট কমাতে দুই সিটি করপোরেশন বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও আবার ফুটপাথ দখল হয়ে যাচ্ছে। যেন ফুটপাতে উচ্ছেদ আর দখলখেলা চলে ১২ মাস। ফলে সাম্প্রতিককালে দুই সিটি করপোরেশন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটপাতের উন্নয়ন করলেও তার সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

ফুটপাতের এ অবস্থা নিয়ে নগরবাসীর ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। এই ২২ দিনে তারা উত্তরা, মহাখালী, মিরপুর, ভাসানটেক, গাবতলী, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় অভিযান চালিয়েছে। এ সময় ফুটপাত ও সরকারি জায়গায় থাকা ব্যাপকসংখ্যক স্থাপনা, দোকান, দলীয় কার্যালয় উচ্ছেদ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ-সংক্রান্ত এক সভায় ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে কোনো বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না। পথচারীদের জিম্মি করে দখল বাণিজ্য সহ্য করা হবে না। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযান চালানো হবে। অভিযানের পর আবার কেউ বসলে অভিযান চালানো হবে। কোনোভাবেই ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে উত্তরের মতো দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে হকাররা অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে গুলিস্তান, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, পল্টন, দৈনিক বাংলা এলাকায় ফুটপাত-রাস্তা দখল করে হকাররা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ নগর ভবনে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সভা শেষে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটিতে অভিযান শুরু হয়েছে। দক্ষিণ সিটিতেও শিগগিরই অভিযান শুরু করা হবে। কিন্তু এর পরদিন গোলাপ শাহ মাজার ও মতিঝিলে অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। ওই এক দিন ছাড়া এরই মধ্যে ১৯ দিন চলে গেলেও এখনো দক্ষিণ সিটি এলাকায় কোনোপ্রকার অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। ফলে দখলদাররা ফুটপাত দখল করে আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিন্তু অভিযান শেষে আবার তারা বসে যাচ্ছেন। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা সদিচ্ছা দেখালেই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

"