যুবলীগ নেতাদের নির্দেশনা দেবেন শেখ হাসিনা

ওমর ফারুকের ভাগ্য নির্ধারণ আজ!

বয়সসীমায় নেতৃত্বে আসতে পারেন সাবেক ত্যাগী ছাত্রনেতারা

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সংগঠনে থাকবেন নাকি তাকে বহিষ্কার করা হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আজ রোববার। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আজ গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ওমর ফারুক চৌধুরীর ভাগ্যনির্ধারণ হবে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে যুবলীগের সম্মেলনের আগে এবার আলোচনায় এসেছে বয়সসীমা বেঁধে দেয়ার বিষয়টি। যদিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুবলীগ নেতাদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই বয়সসীমার ওপর নির্ভর করবে আগামী কমিটিতে কারা নেতৃত্ব দেবেন। বর্তমান কমিটির দক্ষ ও ত্যাগী নেতাদের প্রায় সবারই বয়স ৫০-৬০ বছরের মধ্যে। বয়সসীমা ৬০ বছরের মধ্যে হলে বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসার সুযোগ পাবেন। আর যদি বয়সসীমা ৪৫ থেকে ৫০ বছর বেঁধে দেয়া হয় তবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ভাগ্য খুলে যাবে। সেক্ষেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে যুবলীগের চেয়ারম্যান কিংবা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের প্রতি ক্ষুব্ধ রয়েছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের বৈঠকে তাকে এবং যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে গণভবনে ডাকা হয়নি। গণভবনের বৈঠকে তারা দুজন থাকছেন না বলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে যুবলীগের চেয়ারম্যানের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আজকের বৈঠকে ক্যাসিনোকা-সহ অন্যান্য অপকর্মে জড়িত যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের কর্মকা- নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন অভিযোগ জানাতে পারেন বলেও জানা গেছে। আর প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামত নিয়ে সম্মেলনের ব্যাপারে এবং নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে সঠিক দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের ব্যাপারে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের সম্মেলন হবে। ওই সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে এবং সম্মেলনে যুবলীগ চেয়ারম্যানের ভূমিকার বিষয়ে জানার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য রোববার (আজ) সন্ধ্যায় নেতাদের গণভবনে ডেকেছেন তিনি। সে সময় সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন।

বৈঠকের এজেন্ডা সম্পর্কে জানতে চাইলে হারুনুর রশীদ বলেন, আমাদের আসন্ন কংগ্রেসকে সফল করতে আমরা নেত্রীর কাছে দিকনির্দেশনা চাইব। সম্মেলন প্রস্তুতির ব্যাপারে বেশ কিছু কমিটির জন্য অনুমোদন চাওয়া হবে। এই সভায় বয়সসীমার বিষয়টিও আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে যুবলীগ করার জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪৫ আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কোনো বিতর্কিত নেতাকে গণভবনে না নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান হারুন। তবে বৈঠকে কারা কারা যাচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন পর্যন্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকে যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, সম্পাদকম-লীর সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত থাকার দাবি জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের বিষয়টি বিবেচনাধীন।

সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা করতে সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের নেতৃত্বে তারা গণভবনে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে দেখা করার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠকের বিষয়টি জানান যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ।

এদিকে গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, যুবলীগ নিয়ে গণভবনে মিটিং (বৈঠক) ডেকেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগের চেয়ারম্যানকে কেন ডাকা হয়নি, কোন বয়স পর্যন্ত যুবলীগ করা যাবে, সেসব আলোচনা রোববারই করা হবে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, গণভবনে এই মিটিং ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে কাকে ডাকবেন আর কাকে ডাকবেন না সেটা প্রধানমন্ত্রীর বিষয়। এটা পার্টি অফিসে ডাকা হলে আমি বলতে পারতাম। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যুবলীগকে গণভবনে ডেকেছেন। সেখান থেকে যাদের বলা হয়েছে, তারাই মিটিংয়ে যাবেন।

আওয়ামী যুবলীগের কোনো বয়স কাঠামো ঠিক করা হবে কিনা প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, রোবারের মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

উল্লেখ্য, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সংগঠনে থাকতে পারবেন কি না সেই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ১১ অক্টোবর যুবলীগের সভাপতিম-লীর সভা চেয়ারম্যানকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে গতকাল নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ঘাট এলাকায় সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ। আর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ব্যাপারে কোনো আপস নেই। যথাসময়েই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, এবারের সম্মেলনে পদ হারাতে পারেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সেদিকেই ইঙ্গিত দিলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, নতুন সম্মেলন মানেই নতুন মুখ। প্রবীণ-তরুণ-অভিজ্ঞদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এখানে পরিবর্তন হবে, নতুন মুখ আসবে। সম্মেলন করা অত্যাবশ্যকীয় জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনের বয়স ৮-৯ বছর হয়ে গেছে। তাই সম্মেলন করা এখন বেশ জরুরি হয়ে পড়েছে। সম্মেলন হবে। নির্ধারিত দিনেই। দলকে ঢেলে সাজানো হবে সেখানে।

অন্যদিকে ২৩ নভেম্বরের সপ্তম কংগ্রেসকে সামনে রেখে শীর্ষ দুই পদ পেতে অনেকেই তৎপর। খোঁজ নিয়ে ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া যুবলীগকে ঢেলে সাজানো এবং বয়স নির্ধারণ করে তরুণদের নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত হলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ পদে জায়গা পেতে পারেন অনেকে।

রাজধানীতে ক্যাসিনো পরিচালনা, টেন্ডারবাজি, অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ যুবলীগের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন থেকে ফিরে গত ২ অক্টোবর গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সম্মেলন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সহযোগী সংগঠনগুলোকে সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে চিঠি দেওয়া হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন হারুনুর রশীদ। আগামী ২৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুবলীগের ৭ম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

"