পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত সাপ রয়েছে সুন্দরবনে

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বাগেরহাট প্রতিনিধি

শঙ্খচূড় সাপ সবচেয়ে বেশি দেখা পাওয়া যায় বাংলাদেশের সুন্দরবনে। শঙ্খচূড় সম্পূর্ণ আলাদা প্রজাতির একটি সাপ। এই সাপ লম্বায় ৫ দশমিক ৬ মিটার (১৮ দশমিক ৫ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বনাঞ্চল জুড়েই শঙ্খচূড় দেখা যায়। সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকৃতির অজগর হলেও বিষাক্ত সাপের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও বড় শঙ্খচূড়। গোখরো সাপের সঙ্গে কিছুটা মিল আছে। তাই এই সাপকে রাজগোখরো বলা হয়। এদের বিষ ধারণ ক্ষমতাও সবচেয়ে বেশি। যে পরিমাণ বিষ এরা থলিতে জমা রাখে, তাতে মানুষ তো মারা যায়-ই, পূর্ণবয়স্ক একটি হাতিরও মৃত্যু হয় তিন ঘণ্টার মধ্যে। এরা সহজে মানুষের কাছাকাছি আসে না। ফণা তুলে শুধু ভয় দেখায়।

শঙ্খচূড় সাপের প্রজাতির নাম। যার অর্থ সাপখাদক এবং প্রাথমিকভাবে এটি অন্যান্য সাপ ভক্ষণ করেই তার খাদ্য চাহিদা মেটায়। যেসব সাপ এটি ভক্ষণ করে, তার মধ্যে আছে র‌্যাট সাপ এবং ছোট আকৃতির অজগর। এ ছাড়া অন্যান্য বিষাক্ত সাপও ভক্ষণ করে। যেমন : ক্রেইট, গোখরো এবং নিজ প্রজাতিভুক্ত অন্যান্য ছোট সাপ। শঙ্খচূড় সাপের বিষ নিউরোটক্সিক, অর্থাৎ এটির বিষ আক্রান্ত প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। শঙ্খচূড়ের একটি দংশনই যেকোনো মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। এর কামড়ের ফলে সৃষ্ট মৃত্যুহার প্রায় ৭৫ শতাংশ।

সুন্দরবনের গভীরে এই সাপের অস্তিত্ব দেখতে পাওয়া যায়। ডিম পাড়ার আগে স্ত্রী শঙ্খচূড় তা শরীর পাকিয়ে কু-ুলী তৈরি করে এবং তা মৃত পাতা ব্যবহার করে উঁচু ঢিপির মতো তৈরি করে। পরে সেখানে ২০ থেকে ৪০টির মতো ডিম পাড়া হয়। কু-ুলী পাকানো দেহটি ইনকিউবেটরের মতো কাজ করে। বাচ্চা ফোটার আগ পর্যন্ত শঙ্খচূড় তার ঢিপিটিকে বিরামহীনভাবে পাহারা দিতে থাকে এবং কোনো প্রাণী যেন কাছে আসতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখে।

ঢিবির মধ্যে প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ডিমগুলোকে তা দেওয়া হয়। বাচ্চা ফোটার পর তা নিজে নিজেই ডিমের খোলস ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং নিজেই নিজের শিকার খুঁজতে থাকে, এ জন্য মাকে তার নিজের বাচ্চা ভক্ষণ করতে হয় না। শিশু শঙ্খচূড়ের দৈর্ঘ্য হয় প্রায় ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এদের বিষ প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই। মানে এর কামড় বড় সাপের কোনো অংশে কম না।

 

"