কাউন্সিলর মিজান রিমান্ডে শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র মামলা

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক ও শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। গতকাল শনিবার মিজানকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে মোহাম্মদপুর থানার মুদ্রা পাচার আইনের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গিয়াস উদ্দিন। শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি সাতদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান মন্ডল জানিয়েছেন। এদিকে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানায় গতকাল ভোরে অস্ত্র আইনে একটি হয়েছে। মামলার বাদী র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আবদুল জব্বার। কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। হত্যা, মাদকের কারবার, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নাম। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানের’ মধ্যে হঠাৎ করেই লাপাত্তা হন ক্ষমতাসীন দলের নেতা মিজান। গত সোমবার রাতে মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোডে মিজানের ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় র‌্যাব। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ভারতে পালানোর চেষ্টায় থাকা মিজানকে শুক্রবার রাতে শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করে র‌্যাব। পরে তাকে ঢাকায় এনে র‌্যাব-২ এর পক্ষ থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে মুদ্রা পাচার আইনে মামলা করা হয়। মিজানকে সঙ্গে নিয়ে তার বাসায় তল্লাশি চালায় র‌্যাব।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবদুল আলীম জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে মুদ্রা পাচার আইনে মামলার পর র‌্যাব মিজানকে তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়। থানায় মামলা হলেও শিডিউলভুক্ত হওয়ায় সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিআইডি দুপুরে তাকে থানা থেকে গ্রহণ করে আদালতে নিয়ে যায়।

মিজানের বিরুদ্ধে ঢাকার মামলাটি ছাড়াও শ্রীমঙ্গলে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে বলে র‌্যাব-২ এর সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সোহেল রানা জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট ১৯-এ ধরায় মামলা করা হয়েছে। মামলার জব্দ তালিকায় রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি ও নগদ ২ লাখ টাকা। তিনি আরো জানান, মামলাটি মৌলভীবাজার আদালতে পাঠিয়ে মিজানকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ভোরে ঢাকা থেকে আসা র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ দল হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানকে শ্রীমঙ্গল পৌর এলাকার গুহ রোডের প্রয়াত ফজলুর রহমানের বাসা থেকে আটক করে। আটকের পরপরই তাকে ঢাকাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফজলুর রহমানের স্ত্রী নূরজাহান বেগম বলেন, মিজান তার জামাতা মোস্তাক আহম্মদের বন্ধু ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মিজান তাদের বাসায় আসেন। এ সময় তার সঙ্গে শুধু একটি মাত্র ব্যাগ ছিল। শুক্রবার সকালে তার সিলেটে মাজার জিয়ারতে যাওয়ার কথা ছিল। এর আগে ফজরের আজানের পরই র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, গত বছরও মিজান একবার এসেছিল। এক রাত থেকে পরের দিন সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিল। নূরজাহান বলেন, খারাপ লোক জানলে তাকে বাসায় ঢুকতে দিতাম না। নূরজাহান বেগমের মেয়ে শিউলি বেগমের স্বামী সাত বছর আগে মারা যান। শিউলি বেগম বলেন, মিজান আমার স্বামীর বন্ধু ছিলেন। এই সুবাদে কয়েকবারই তিনি বাসায় এসেছিলেন।

 

"