র‌্যাগিং বন্ধে ব্যবস্থা নিলে আবরার হত্যাকাণ্ড হতো না

বিচারপতি হাসান আরিফ

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেছেন, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাগিংয়ের ঘটনা নিয়ে যদি আগে থেকে শিক্ষকরা ব্যবস্থা নিত তাহলে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনা ঘটত না। গতকাল শনিবার আইন, বিচার ও সংবিধানবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টারদের জন্য আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি।

শেখ হাসান আরিফ বলেন, শিক্ষক সমিতি আজ আবরার হত্যার ঘটনা নিয়ে মিছিল করেছে। আজ কেন তারা মিছিল করছে? র‌্যাগিং বন্ধে আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালগুলো যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করত তাহলে আবরারের হত্যার মতো ঘটনা ঘটত না।

শেখ হাসান আরিফ বলেন, ইউনিভার্সিটিতে র‌্যাগিং হয় সেটা আমরা সবাই জানতাম। অনেক পত্রিকায় সেগুলো নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু আমরা নীরব, প্রশাসন নীরব, ইউনিভার্সিটি অথরিটি নীরব, সবাই নীরব। যেই আউটবার্স্ট (বিস্ফোরণ) ঘটল, আবরার মারা গেল, যখন প্রধানমন্ত্রী বলল এটার বিচার হতে হবে তখন সবাই ঝাপিয়ে পড়ল। সবাই বলছে র‌্যাগিং হচ্ছে ইউনিভার্সিটি প্রশাসন দেখেনি কেন? সবাই বলছে ভিসি কী করেছে এতদিন দেখেনি কেন? এটা এখন কেন বলবে?

তিনি বলেন, যখন র‌্যাগিং হচ্ছিল, যখন ছাত্রদের এভাবে মারধর করার একটা কালচার তৈরি হয়েছে, উপদেশ দেওয়ার নামে গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার একটা কালচার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৈরি হয়েছে তখন শিক্ষকরা কোথায় ছিল? আজকে শিক্ষক সমিতি আবরারের ঘটনা নিয়ে মিছিল করছে। আপনারা সেদিন কোথায় ছিলেন? যখন এই র‌্যাগিংগুলো আপনার প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে আপনি কী করেছেন, কী পদক্ষেপ নিয়েছেন পুলিশকে রিপোর্ট করেছেন, করেননি?

বিচারপতি হাসান আরিফ বলেন, ক্যাসিনো নিয়ে অনেক কিছু হচ্ছে এখন। ক্যাসিনো বাংলাদেশে অনেক বছর ধরে আছে, কিন্তু সাংবাদিকরা পেরেছেন রিপোর্ট করতে এটা নিয়ে, পারেননি। যখন প্রধানমন্ত্রী বললেন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব তখনই সাংবাদিকরা ঝাপিয়ে পরলেন রিপোর্ট করার জন্য, কার কত শত কোটি টাকা আছে। তাহলে আসলেই কি আমাদের দেশে পুরোপুরি প্রেসের বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে? তার মানে কি আপনাদের মধ্যেও একটা ভয় কাজ করছে? আমি রিপোর্ট করলে হয়তো আমি সমস্যায় পড়ে যাব, হয়তো আমার সম্পাদক সমস্যায় পড়ে যাবে। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে একই রকমভাবে যৌন হয়রানিটা ডেভেলপ করছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স বলছে আমাদের সাংবাদিকদের বা প্রেসের স্বাধীনতা কমে গেছে। সাত থেকে আট ধাপ নেমে গেছে। যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে প্রতিদিন আমরা গরম গরম বা সেনসেটিভ খবর পাচ্ছি। খেয়াল করে দেখবেন আপনারা সাংবাদিকরা তখনই একটা বিষয়ে রিপোর্ট করেন বা করতে পারেন যখন সেটা আউটবার্স্ট হয়ে যায়। একদম নগ্নভাবে চোখের সামনে চলে আসে। কিন্তু চোখের সামনে আসার আগে ঘটনাগুলো হচ্ছে আপনারা সবাই জানেন কিন্তু প্রকাশ করতে পারেন না এবং প্রকাশ করতে না পারার পেছনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে। এখানেই প্রেসের স্বাধীনতার একটা সমস্যা আছে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। বক্তব্য রাখেন ফেয়ার ওয়ার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বাবলুর রহমান, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির পরিচালক তৌহিদা খন্দকার, সহসভাপতি জোবায়দা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক সীমা জহুর, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি ওয়াকিল আহমেদ হিরণ প্রমুখ।

 

 

"