আসামি মাজেদুল ও শামীম গ্রেফতার

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মাজেদুল ইসলাম ও শামীম বিল্লাহকে গতকাল শুক্রবার গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল ভোর ৪টার দিকে সিলেট থেকে মাজেদুলকে গ্রেফতার করা হয়। ম্যাটারিয়াল অ্যান্ড ম্যাটার্লজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজেদুল ইসলাম শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের একজন কর্মী। আবরার হত্যা মামলার এজাহারে তার নাম রয়েছে ৮ নম্বরে।

অন্যদিকে মামলার ১৪ নম্বর আসামি শামীম বিল্লাহকে গতকাল বিকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ইছাকুড় গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। শামীম বিল্লাহ ওই গ্রামের বাবলু রহমানের ছেলে। তিনি বুয়েটের নেভাল অ্যান্ড আর্কিটেকচার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই তদন্ত) আনিছুর রহমান জানান, শামীমকে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। তারাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।

ডিএমপি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাজেদুল ও শামীমকে নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হলো, তাদের মধ্যে ১৪ জন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। চারজনের নাম মামলার এজাহারে না থাকলেও হত্যাকান্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাকৃতদের মধ্যে বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল গত বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বুয়েটের বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আবরারকে কীভাবে ক্রিকেট স্টাম্প আর স্কিপিং রোপ দিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে বেধড়ক পেটানো হয়েছিল, সেই ভয়ংকর বিবরণ তিনি জবানবন্দিতে দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

আবরারের বাবার করা মামলায় যে ১৯ জনের নাম ছিল, তাদের মধ্যে পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন মেহেদী হাসান রাসেল, (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশারফ সকাল (বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), মো. তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মো. আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), এহতেমামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. মোয়াজ (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

এজাহারের আসামিদের মধ্যে মো. জিসান, মো. শাদাত, এহতেমামুল রাব্বি তানিম, মো. মোর্শেদ, ও মো. মোয়াজ এখনো পলাতক।

এজাহারে নাম না থাকা চারজন গ্রেফতার হয়েছেন। তারা হলেন ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), অমিত সাহা (সিই), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬তম ব্যাচ) ও শামসুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং)।

আবরারকে নির্যাতনে জড়িত অভিযোগে ছাত্রলীগ যে ১১ জনকে বহিষ্কার করেছে, তাদের মধ্যে একজনের নাম এজাহারে কিংবা গ্রেফতারের তালিকায় নেই। তিনি হলেন মুজতবা রাফিদ (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ)। তিনি বুয়েট ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক ছিলেন। বহিষ্কৃত অন্যরা যে পদে ছিলেন মেহেদী হাসান রাসেল (সাধারণ সম্পাদক), মুহতাসিম ফুয়াদ (সহসভাপতি), মেহেদী হাসান রবিন (সাংগঠনিক সম্পাদক), অনিক সরকার (তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (ক্রীড়া সম্পাদক), মনিরুজ্জামান মনির (সাহিত্য সম্পাদক), ইফতি মোশাররফ সকাল (উপসমাজসেবা সম্পাদক), মুনতাসির আল জেমি (সদস্য), এহতেমামুল রাব্বি তানিম (সদস্য) ও মুজাহিদুর রহমান (সদস্য)।

 

"