রিশা হত্যা মামলার রায়

ঘাতক ওবায়দুলের ফাঁসি

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশাকে (১৪) ছুরিকাঘাতে খুনের মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুলের ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে ওবায়দুলকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু কাশিমপুর কারাগার থেকে মামলার একমাত্র আসামি ওবায়দুলকে আদালতে উপস্থিত করেনি পুলিশ। এজন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ রায়ের জন্য এ দিন ঠিক করে দেন।

রায়ে বিচারক বলেন, ‘রিশা উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার পিতা একজন ব্যবসায়ী। অপরদিকে আসামি একটি টেইলার্সের কাটিং মাস্টার। মূলত আসামির প্রেম ছিল একটি অসম প্রেম। ভালবাসার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সেই ভালবাসা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’ এদিকে রিশা হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা তানিয়া হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আসামি ওবায়দুলের মৃত্যুদন্ডের রায় শোনার পর আদালত চত্বরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, রায়ে আমি খুশি। ফাঁসির রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়। আমার মতো যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়।

এদিকে রায় শোনার জন্য এ দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন ও গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আরেফুর রহমান টিটু। তারাও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।

এ দিন আদালতে আরো উপস্থিত ছিল উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও। রায় শুনে তারা সন্তোষ প্রকাশ এবং দ্রুত কার্যকরের দাবি জানায়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে রিশা ও তার মা তানিয়া ইস্টার্ন মল্লিকা মার্কেটে বৈশাখী টেইলার্সে কাপড় সেলাই করাতে যান। এ সময় তার মা ওই দোকানের রসিদের রিসিভ কপিতে ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। ওই টেইলার্সের কর্মচারী ওবায়দুল রিসিভ কপি থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রিশাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করত। রিশার মা এ বিষয়ে ওবায়দুলকে সতর্ক করেন।

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট রিশা ও তার বন্ধু মুনতারিফ রহমান রাফি পরীক্ষা শেষে কাকরাইল ওভারব্রিজ পার হওয়ার সময় ওবায়দুল রিশাকে আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেয়। রিশা তা প্রত্যাখ্যান করলে ওবায়দুল তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রিশাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ২৮ আগস্ট মারা যায় রিশা।

ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ২৪ আগস্ট রিশার মা তানিয়া হোসেন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ২০১৬ সালের ১৪ নভেম্বর ওবায়দুলকে একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলী হোসেন।

২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকা মহানগর অষ্টম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবুল কাশেম আসামি ওবায়দুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় ২৬ সাক্ষীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ২১ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

 

"