পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

সবার কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য

* প্রতিদিন আসবে ৪৫ কোটি লিটার পানি * ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান * ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের তাগিদ

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা না কমালে আমাদের গুরুতর পরিণতির মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, সবার কাছে নিরাপদ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাই বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছি। ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের যশলদিয়ায় পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ফেজ-১) ও ঢাকার সাভারের তেঁতুলঝরায় ওয়েল ফিল্ড কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট (ফেজ-১) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের গান্ধাপুর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় পানি শোধনে বিপুল খরচের কথা তুলে ধরে তা ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কম পানি ব্যবহার করলে বিলও কম আসবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং ইল, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় রাজধানীর ক্রমবর্ধমান পানি চাহিদা মেটাতে এই ৩ প্রকল্প এবং বিগত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসার নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্প ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখানো হয়।

পদ্মা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা। এ প্রকল্প থেকে প্রতিদিন পানি আসবে ৪৫ কোটি লিটার। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রাজধানীর কাছাকাছি সাভার থেকে প্রতিদিন ১৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য ঢাকা ওয়াসা ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তেঁতুলঝরা-ভাকুর্তা ওয়েল ফিল্ড প্লান্ট বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার প্লান্ট প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিদিন ৫০ কোটি লিটার পানি শোধন করা হবে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, ফ্রেন্স ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এএফডি), ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার জন্য নিরাপদ পানি’Ñ সরকারের এই সেøাগান ধারণ করে ঢাকা ওয়াসা রাজধানীর বস্তিগুলোতে আইনসম্মত ও নিরাপদ পানি সংযোগের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে। পর্যায়ক্রমে সব বস্তি পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে। আমরা কেবল ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়েও নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছি।”

তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থ পানির উৎসের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে কাজ চলছে। আগে নিরাপদ পানি নিশ্চিতে কিছুই না করার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, আমরা ঢাকা মহানগরীকে পানি সংকটের মধ্যে পাই এবং এই সংকট কাটাতে সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নির্মাণ করি। পুনরায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর একই পরিস্থিতি পাই এবং সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ২ ও ৩ নির্মাণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা না কমালে আমাদের গুরুতর পরিণতির মোকাবিলা করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় জলাধার নির্মাণ এবং বর্জ্য ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী সেচকাজে বৃষ্টি ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ৪ হাজার ৭০০ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সব নদীর নাব্যতা বজায় রাখা ও তা জলাধার হিসেবে ব্যবহার করতে নদী খননকাজ চলছে। পরিস্রবণের মাধ্যমে ৭ হাজার পুকুর লবণাক্ততামুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া লবণাক্ত অঞ্চলে ৩২ হাজার ৬০০ গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের নগরমুখী প্রবণতা বন্ধ করতে গ্রামের জনগণের কাছে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। পানি সরবরাহ, স্যুয়ারেজ এবং ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে সরকার তিনটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে। ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যুয়ারেজ অ্যাক্ট, ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন অ্যাক্ট ২০১৪ পাস এবং ১৯৯৯ সালে জাতীয় পানিনীতি এবং ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়।

এমডিজির সফল বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের ঘোষিত এসডিজি-২০৩০-এর ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ৬ নম্বর হচ্ছে ‘সবার জন্য স্যানিটেশনের টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা। আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসডিজি সমন্বিত করেছি এবং এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

 

"