বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হলো দুর্গোৎসব

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অশুভ শক্তি নাশ করতে মহালয়ায় কৈলাশ ছেড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন দেবী দুর্গা। বিজয়া দশমীর দিন আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে কৌলাসের দেবালয়ে প্রস্থান করলেন। অগণিত ভক্তের মনে গতকাল ছিল বিদায়ের বিষাদ। তবে বিষাদ ভুলে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানাতে ভক্তরা সিঁদুর খেলায় মাতেন। বিজয়া দশমীর দিন গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে তর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজা সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান পুরোহিত রঞ্জিত

চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক বিসর্জন পরে সম্পন্ন হবে।’

আনন্দ-বেদনার আবহে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাজধানীর সদরঘাট সংলগ্ন বিনা স্মৃতি স্নানঘাটে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। প্রথমেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজামন্ডপ তাদের প্রতিমা বিসর্জন দেয়। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন পূজামন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

ধানমন্ডি থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে আসা শ্রী কৃষ্ণ বলেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই সুন্দরভাবে মাকে বিদায় দিতে পেরে খুবই তৃপ্তি লাগছে। আয়োজকরা জানান, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ছাড়া পূজা উদ্্যাপন হয়েছে। এদিকে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সদরঘাট এলাকায় নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা। র‌্যাব, পুলিশ ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়।

দুর্গাপূজায় সবশেষ রীতি অনুযায়ী সধবা নারীর স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নারীরা নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ঘুরে দেখা যায়, লাল শাড়ি, লাল পাড়ের সাদা শাড়ি পরা নারীরা দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। বাদ্যের তালে তালে মন্ডপে মন্ডপে চলে বিদায়ের প্রস্তুতি।

রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে, এ জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

এদিকে মায়ের আশীর্বাদ নিতে শেষবারের মতো মন্দিরে মন্দিরে ভিড় করেন ভক্তরা। এ সময় মন্ডপে বাজে বিদায়ের সুর। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বের হয় মূল শোভাযাত্রা। নগরীর ওয়াইজঘাট, তুরাগ, ডেমরা, পোস্তগোলা ঘাটে হয় প্রতিমা বিসর্জন। কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, রাত ১০টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিসর্জন-পর্ব শেষ করতে সবাইকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুপুরে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিকেল ৩টায় বিসর্জন শোভাযাত্রা বনানী পূজামন্ডপ থেকে বের হয়ে গুলশান ২ নম্বর গোলচত্তর হয়ে কামাল আতাতুর্ক রোড-কাকলি-এয়ারপোর্ট রোড হয়ে আশুলিয়ায় গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যা ৬টায় আশুলিয়ার বিআইডাব্লিউটিএ ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ জানায়, এ বছর সারা দেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৪৮৩টি বেশি। রাজধানীতে ২৩৬টিসহ ঢাকা বিভাগে ৭ হাজার ২৭১টি মন্ডপে এবার পূজা হয়েছে।

এ ছাড়া, চট্টগ্রামে ৪ হাজার ৪৫৬টি, সিলেটে ২ হাজার ৫৪৫টি, খুলনায় ৪ হাজার ৯৩৬টি, রাজশাহীতে ৩ হাজার ৫১২টি, রংপুরে ৫ হাজার ৩০৫টি, বরিশালে ১ হাজার ৭৪১টি, ময়মনসিংহে ১ হাজার ৬৩২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

 

"