গুটিকয়েকের অপরাধের দায় পুরো সংগঠনের নয় : কাদের

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

দলীয় পরিচয়ে কেউ অপকর্ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সরকার সমর্থক সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, অল্প কয়েকজনের অপরাধের জন্য পুরো সংগঠন দায়ী হবে না। গতকাল মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। গত রোববার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়িতে ইলেকট্র্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্র্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার

ফাহাদের লাশ পাওয়ার পর থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। সহপাঠীদের বরাতে সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

আবরার হত্যাকান্ডে তার বাবা ১৯ জনকে আসামি কেরে একটি মামলা করেছেন, যার মধ্যে এ পর্যন্ত বুয়েটের ১০ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত। এ ঘটনায় বুয়েটের ১১ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কারও করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

ফাহাদ হত্যাকান্ডের দায় আওয়ামী লীগ নেবে কিনা- এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন দলে অনেকেই ঢুকে পড়ে। এখানে দেখার বিষয়- এক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা কী। অপকর্ম করে কেউ পার পায় না, পাবে না। বিএনপির সময় অপকর্মের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা দলীয় ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সব অপকর্মের বিরুদ্ধে। আমরা সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিই।

ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব জানে এবং তাই কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাঁচ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়া চলছে। একদিনেই তো আর বিচার করা যায় না।

বুয়েটে ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের বিষয়ে এক প্রশ্নে কাদের বলেন, কোথাও আন্দোলনের ছোট ঢেউও নেই। ছাত্রলীগের গুটিকয়েক অপরাধ করলে বা যুবলীগের গুটিকয়েক অপরাধ করলে সেটার জন্য গোটা সংগঠন দায়ী নয়। দলের পরিচয়ে কেউ অপকর্ম করলে ছাড় পাবে না। ফাহাদ হত্যাকান্ডের পর প্রায় দুই দিন পরও বুয়েট ভিসির ক্যাম্পাসে না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি যেতে পারেননি, সুস্থ হলেই যাবেন।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে দলের তালিকায় জামায়াত নেই। জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এটা আদালতের বিষয়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

 

"