গণপূর্তের ৫৩ প্রকল্প

জি কে শামীমের বিকল্প ভাবছে মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদক ও অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা ঠিকাদার জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের বিকল্প খুঁজছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। শামীমের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, কোনো ঠিকাদারের অপারগতার কারণে সরকারি কোনো উন্নয়ন কাজই আটকে থাকবে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আমরা আইন অনুযায়ী নোটিস পাঠাব। আর গণপূর্ত অধিদফতরের প্রকৌশলীরা বলছেন, চুক্তি বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরু করতে গেলে লম্বা সময় লাগবে। গণপূর্ত অধিদফতরের ৫৩টি প্রকল্পের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। এসব প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এর মধ্যে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এককভাবে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ করছে। বাকি ৪০টি প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে চলছে বলে জানিয়েছে গণপূর্ত অধিদফতর। এসব প্রকল্পের ২৪টির অনুমোদন দিয়েছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আটটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী।

এছাড়া অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তিনটি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। বাকি ১৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এদিকে জি কে শামীম গ্রেফতার হওয়ার পর তার হাতে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থমকে যায়। রোববার রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ। পুরো নির্মাণ এলাকায় কোনো শ্রমিককে দেখা যায়নি।

আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন ও ন্যাশনাল নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি ভবন যৌথভাবে নির্মাণ করছে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড এবং পিএইএল (জেভি)। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি থাকা দুটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। নির্মাণ এলাকার প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। দুজন নিরাপত্তাকর্মী সেখানে পাহারা দিচ্ছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনের মূল কাজ শামীমের হলেও কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কাজ করছে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ভবনের সব কাজ বন্ধ। আমাদের হেড অফিস থেকে মালামাল সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে কাজ পুরোই বন্ধ হয়ে গেছে।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের একটি ভবনের নির্মাণকাজ করছে জিকেবি। এ ভবনের নির্মাণকাজ শেষ। তবে এখনো অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার কাজ শেষ হয়নি। সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাউকে পাওয়া যায়নি। জি কে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণাধীন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে একটি তালিকা করেছে গণপূর্ত অধিদফতর। এর মধ্যে এককভাবে জিকেবির হাতে থাকা ১৩টি প্রকল্পের কোনোটিই পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোনো প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৯৯ শতাংশ। আবার কোনো প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি শূন্য শতাংশ।

এগুলো হচ্ছে : ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা নির্মাণকাজের ভৌত অগ্রগতি ৯০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ। রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের চারটি অংশের গড় ভৌত অগ্রগতি ৭১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণকাজের ভৌত ৯৫ শতাংশ, আর্থিক ৯২ শতাংশ। গাজীপুরে পাঁচটি র‌্যাব কমপ্লেক্স এবং একটি র‌্যাব ট্রেনিং স্কুল নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত ৯৯ শতাংশ, আর্থিক ৯৪ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। সচিবালয়ের নির্মাণাধীন নতুন ২০তলা ভবনের ষষ্ঠতলা থেকে ২০তলা পর্যন্ত পূর্ত এবং অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক কাজের ভৌত ৮০ শতাংশ এবং ৫২ শতাংশ আর্থিক আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে।

আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থপোডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, নিটোরের এলইডি বাতি স্থাপন ও বৈদ্যুতিক কাজের ১০০ শতাংশ ভৌত এবং ৯৯ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৩১ শতাংশ। আজিমপুরে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য শতাংশ। সচিবালয়ে নতুন ২০তলা ভবনের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৩ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। মহাখালীতে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আধুনিকায়ন প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮ শতাংশ, আর্থিক ৬৭ শতাংশ। এছাড়া যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে এমন প্রকল্পগুলোর মধ্যে শুধু উত্তরা নিম্ন ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ১০০ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। একটি প্রকল্পের অগ্রগতি শূন্য শতাংশ।

 

"