অসুস্থ সম্রাট কারাগার থেকে হাসপাতালে

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অসুস্থ হয়ে পড়ায় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। এদিকে সম্রাটকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

তারা বলছেন, সম্রাটের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানো প্রয়োজন। বরাবরই দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া সম্রাটকে তাই তারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। গতকাল সকালে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সম্রাটকে দেখতে এসে তারা সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সম্রাটের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রধান আইনজীবী হিসেবে আদালতে লড়বেন যুবলীগের আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আফরোজা শাহনাজ পারভীন হীরা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজ আমরা আমাদের ক্লায়েন্ট ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। হীরা বলেন, তার (সম্রাট) শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ। গত ১০ সেপ্টেম্বর তার হার্টে পেসমেকার লাগানোর জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে ১৪ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠান থাকায় তিনি যেতে পারেননি। পরবর্তী সময়ের দেশের পরিস্থিতি আপনারা সবাই জানেন। তাকে তো গ্রেফতারই করা হলো।

তবে সম্রাটের চিকিৎসায় সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকাল ৩টায় সম্রাটের চিকিৎসার পরবর্তী ফলোআপ রিপোর্টের বিষয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হাসপাতালের পরিচালক ডা. আফজালুর রহমান।

তিনি বলেন, সকাল থেকে সম্রাটের যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে সেগুলো রিপোর্ট পজেটিভ। তবে তিনি যেহেতু হৃদরোগে আক্রান্ত তাই আমরা এ ধরনের রোগীদের ২৪ ঘণ্টা ফলোআপে রাখি। সেই হিসেবে বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখনো তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। শঙ্কার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরো বলেন, তার চিকিৎসায় এরই মধ্যে আমরা সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছি। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান হিসেবে আমি থাকছি। মেডিকেল বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিন, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর মহসিন আহমেদ, প্রফেসর নাসির উদ্দিন, প্রফেসর কাজী আবুল আজাদ, প্রফেসর আশরাফুল হক সিয়াম ও সার্জারি ডিপার্টমেন্টের প্রধান রামপদ সরকার।

সম্রাটের সঙ্গে থাকা কারারক্ষী মো. মুজাহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সম্রাটকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া পরামর্শ দেন। পরে সকাল ৮টার দিকে সম্রাটকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

গত শনিবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব জানায়, শনিবার রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ভারত সীমান্তবর্তী এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সরকারের দুর্নীতিবিরোধী চলমান কঠোর অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের মধ্যে সম্রাট সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনীতিক। গ্রেফতার এড়াতে তিনি গোপনে ভারতে পালাতে চেয়েছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার ব্যাংক হিসাব স্থগিত ও তলব করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর তার বিদেশ গমনে জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

গ্রেফতারের পর রোববার সম্রাট ও আরমানকে আনা হয় ঢাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সম্রাটকে নিয়ে তার কাকরাইলের দলীয় কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। একই সময়ে র‌্যাব সদস্যরা মহাখালী ডিওএইচএস ও শান্তিনগরে তার বাসায় অভিযান চালান। এছাড়া সম্রাটের সহযোগী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আরমানের মিরপুরের বাসায়ও অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সম্রাটের কার্যালয় থেকে পিস্তল, ইলেকট্রিক শক দেওয়ার মেশিন, গুলি, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, ইয়াবা ও ক্যাঙ্গারুর চামড়াসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করে র‌্যাব।

অভিযান শেষে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়ে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরমানকেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের মামলায় ছয় মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া রোববারই এই দুজনকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

গত সোমবার ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সহসভাপতি এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে র‌্যাব। এর মধ্যে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে ১০ দিন করে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। রিমান্ড শুনানি বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হওয়ার কথা। রমনা থানায় করা মাদকের মামলায় এনামুল হক আরমানের বিরুদ্ধেও ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

 

"