এনআইডির আদলে সংশোধন হবে শিক্ষা সনদ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

আগামীতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষা সনদ সংশোধন হবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয়পত্রের আদলে। সম্প্রতি তিন শিক্ষা বোর্ডের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইসির নিবন্ধন অনুবিভাগের এক সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে আগামীতে জাতীয় পরিচয়পত্রধারী (এনআইডি) নাগরিকরা বোর্ডের সনদে জন্ম তারিখ, পুরো নাম এবং মা-বাবার নাম সংশোধন করতে চাইলে তা করতে হবে এনআইডির আদলে।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এবং এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. আবদুল বাতেন জানান, এনআইডি পাওয়া অনেকেই বলছেন, তাদের এনআইডিতে ভুল আছে। তাই তারা সংশোধনের আবেদন জানাচ্ছেন। তবে ইসিতে সংশোধনের জন্য আবেদন করা ব্যক্তিদের কাগজপত্র বা দালিলিক প্রমাণগুলো তদন্ত করে দেখা যাচ্ছেÑ এনআইডি পাওয়ার পর ভিন্ন অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নতুন করে ওইসব শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদ নিয়ে অথবা সনদ সংশোধন করে তার আদলে তারা এনআইডি সংশোধন করতে চাইছেন। তাই এ নিয়ে তিক্ত এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোকে কমিশন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, আগামীতে প্রাপ্ত সনদ সংশোধন হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের আদলে। তবে ইসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে সঠিক। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে। এনআইডিকে ভিত্তি ধরলে শিক্ষাজীবনের সনদ অনেকটা ফিকে হয়ে যায়। এটা বাণিজ্যের একটা অংশও হয়ে যেতে পারে। আইডি নাগরিক পরিচয় হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও শিক্ষা সনদ মানুষের সামাজিক মর্যাদার অংশ। এমনকি চাকরিসহ সর্বক্ষেত্রে শিক্ষা সনদÑ প্রধান পরিচয়ক হিসেবে ব্যবহার হয়, এটা মানুষের আত্মগৌরবের বিষয়।

এক-এগারো প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ছবিযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র কার্যক্রম হাতে নেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে একজন ব্যক্তি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একাধিক স্থানে ভোটার হতেন বলে অভিযোগ ছিল। পরে ভোটার হওয়ার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা কার্যকর শুরু হয় ২০০৭ সালে। ওই তালিকায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বর্তমানে সাড়ে ১০ কোটির মতো ভোটার রয়েছেন। তবে এনআইডিতে বেশির ভাগ ভোটারের নাম ও জন্ম তারিখ ভুল। তারা প্রতিনিয়ত এনআইডি সংশোধনে আবেদন নিয়ে ইসিতে হাজির হচ্ছেন। গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা মোট ভোটারের ৪০ শতাংশের মতো।

এ নিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতার মুখোমুখি ইসি। সম্প্রতি একটি ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইসির এক কর্মকর্তা বলেন, একজন ব্যক্তি সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে কর্মরত। তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডির্ভোস হওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সম্প্রতি পেনশন সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ে ওই সেনাসদস্য তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ও বাবার নাম সংশোধন করে প্রথম স্ত্রীর নাম-পরিচয় গ্রহণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। গত ২০০৭ সাল থেকে নকল পরিচয় ধারণ করার জন্য ইসিতে ঘোরাফেরা করছেন ওই সেনাসদস্যের স্ত্রী। কিন্তু ইসি এ অনৈতিক কাজে সহযোগিতা না করায় এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্ক-বিতর্কও হয় বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ওই নারীর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের এনআইডি উইংয়ে সাক্ষাৎ হয়। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। শুধু ওই নারী নন, অনেকেই এর পেছনে ছুটছেন। আবার অনেকে চাকরি কিংবা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে বয়স কমাতে (যাদের সুযোগ রয়েছে) মাদরাসা, কারিগরি ও উন্মুক্তে ভর্তি হয়ে সনদ নিচ্ছেন। এর আদলে সংশোধন করতে চাইছেন বিদ্যমান এনআইডি।

এ বিষয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে কমিশন ওই শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্প্রতি সভা করে। সভায় জানানো হয় জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা বড় ধরনের ভুল যেমন- নামের পুরো অংশ কিংবা আংশিক যোগ করা অথবা জন্ম তারিখ পুরো সংশোধন করাÑ এ ধরনের অহরহ আবেদন হচ্ছে। তাই এসব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীতে জাতীয় পরিচয়পত্রের আদলে শিক্ষা সনদ সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে জন্ম তারিখ ও নামে অথবা অন্য কোনো ক্ষেত্রে যদি সত্যিই ভুল হয়ে থাকে তাহলে দালিলিক প্রমাণসাপেক্ষে সংশোধন করা যাবে বলে ইসির এনআইডি উইং থেকে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

"