আহাজারির চিহ্ন হলের করিডরে

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্ষ থেকে ডেকে নেওয়ার পর কী ঘটেছিল তা কেবল বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের জানা। আবরার নেই, তবে রুম থেকে বের হওয়ার আগে রেখে যাওয়া চেয়ার-টেবিল, বিছানা, কাঁথা সেভাবেই পড়ে আছে। ছেড়ে যাওয়া এলোমেলো জিনিসই তার সাক্ষী। আবরারের শরীরে বিভিন্ন জায়গা থ্যাঁতলানো, কালসিটে পড়া আঘাতের চিহ্ন। কী নিদারুণভাবে পেটানো হলে একজনের দেহ এভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। আর হলের মধ্যে এমন ঘটনা দেখে অনেকেই বিস্মিত, ভীত। মন ঘৃণায় ভরে গেলেও প্রকাশ করতে পারছেন না। চিৎকার করে কাঁদছেন কেউ কেউ, তার পরও আড়াল খুঁজছেন।

আবরারের রুম, আবরারের রুমের সামনের করিডর এখন ফাঁকা। করিডরটি ক্রাইমসিনের দখলে। হলুদ বারের ওপারে আবরারের নিভে যাওয়া জীবনের চিহ্ন আর এপারে তার শূন্যতা। ওই সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আবরারের লাশ, আবরার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সহপাঠীরা জানান, হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্র রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। গভীর রাতে হলের সিঁড়িতে মেলে তার লাশ। এরপর থেকেই সহপাঠীরা সংগঠিত হচ্ছে আবরার হত্যার প্রতিবাদ জানাতে। অনেকে হত্যার বিচার চেয়ে ফেসবুকে সরব হয়েছেন।

হলের মেঝেতে পড়ে থাকা আবরারের রক্তের দাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠী বলেন, ‘ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কারণে যেখানে জীবন যায়, সেখানে মুখ খুলব কোন সাহসে।’

একই করিডরের অন্য রুমের এক শিক্ষার্থী বলেন, রোববার ওকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে এসে তার পোশাক নিয়ে গেছে দুজন। তখনই বুঝেছি বিপদ কিছু ঘটেছে। কিন্তু কাকে বলব এসব আমরা?

আবরারের পড়ার টেবিলে সকালে তার লাশ পাওয়ার পর পুলিশ হত্যার আসল কারণ বের করতে তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের খুঁজে বের করতে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে।

 

"