সম্রাট ঢাকা ছাড়েন ৯ দিন আগে, পালানোর চেষ্টা

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে আটক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে একাধিকবার ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকায় তার চেষ্টা সফল হয়নি। অবশেষে প্রায় তিন সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে গতকাল বোরবার ভোরে র‌্যাবের হাতে আটক হন যুবলীগের এ নেতা।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দেশ ছেড়ে পালানোর উদ্দেশ্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা ছাড়েন সম্রাট। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামে দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেন তিনি। সেখানে তিনি একাধিকবার সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাওয়া এবং সেখান থেকে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা এসব তথ্য ছিল গোয়েন্দাদের কাছে। তবে ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতারদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য এত দিন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে সম্রাটের ওপর নজরদারি ছিল। এমনকি সম্রাট কুমিল্লা যাওয়ার পর কুমিল্লার সব সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়।

সম্রাটকে আটকের অভিযানে থাকা এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রোববার ভোররাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্রাট এখানে মনিরুজ্জামান নামে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল গত কয়েক দিন। উদ্দেশ্য ছিল দেশ ছেড়ে ভারত সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়া। সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ক্যাসিনো-কান্ডে সম্রাটের জড়িত থাকার প্রমাণ হাতে নিয়ে মধ্যরাতে ওই বাড়িটি র‌্যাব সদস্যরা ঘিরে রাখেন।

র‌্যাবের ওই কর্মকর্তা বলেন, সম্রাট একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে সীমান্তে আগে থেকে কড়া নজরদারি রাখায় তিনি সফল হতে পারেননি। ক্যাসিনো-কান্ডে জড়িত থাকা খালেদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পরই সম্রাটের নাম নিশ্চিত হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তখন থেকে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাবের ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকেই দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল সম্রাটের গ্রেফতার নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন ছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইসি) সম্রাট ও তার স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠিও দেয়।

সম্রাট আটক হয়েছেনÑ এমন গুঞ্জনের মুখে সর্বশেষ গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সম্রাট গ্রেফতার কি নাÑ এ প্রশ্নের উত্তর আপনারা শিগগিরই জানতে পারবেন।’ শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে আটক হলেন সম্রাট।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইয়ং মেনস ক্লাবে প্রথম অভিযান শুরু করে তারা। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া সেখানে অবৈধ ক্যাসিনো চালাতেন বলে অভিযোগ আছে। ওই একই সময়ে গুলশানে খালেদের বাসাতেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যায় আটক করা হয় তাকে।

অভিযানে খালেদের বাসা থেকে একাধিক অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ টাকা জব্দ করে র‌্যাব। অন্যদিকে ইয়ং মেনস ক্লাবের ক্যাসিনো থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়, আটক করা হয় ১৪২ জনকে। তাদের মধ্যে ৩১ জনকে এক বছর ও বাকি ১১১ জনকে ছয় মাস করে কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার, সিগারেটসহ নেশাজাতীয় বিভিন্ন দ্রব্য জব্দ করা হয় ওই ক্যাসিনো থেকে।

পরে মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাব, ধানমন্ডির কলাবাগান ক্লাবসহ উত্তরা-বনানী-গুলশানের বেশ কয়েকটি ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালানো হয়। প্রতিটি ক্যাসিনো থেকেই উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার, সিগারেটসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য।

 

"