স্মারকলিপিতে দাবি

বাঙালিরাই আসামের আদি বাসিন্দা

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

আসাম চুক্তির ৬ নম্বর ধারা রূপায়ণের জন্য কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে আসামের বিভিন্ন বাঙালি সংগঠনের তরফে পৃথক স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আসামে ৮০ লক্ষাধিক বাঙালি থাকলেও কমিটিতে বরাক বা ব্রহ্মপুত্রের একজন বাঙালি প্রতিনিধিকেও রাখা হয়নি। ফলে এই কমিটির গঠনই অসম্পূর্ণ। সংগঠনগুলোর দাবি, চুক্তিতে

অসমিয়া শব্দ থাকলেও কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিপুত্র ও অন্য শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। বাঙালি ঐক্যমঞ্চের নেতা শান্তনু মুখোপাধ্যায় জানান, আসাম নামকরণের অনেক আগে থেকেই বাঙালিরা সিলেট, কামরূপ, গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা। বাঙালিরাও যে আসামের ভূমিপুত্র তা ঐতিহাসিক সত্য। তারা স্মারকলিপিতে আসাম সরকারের দেওয়া শ্বেতপত্র, সুপ্রিমকোর্টের বক্তব্য, বিধানসভার কমিটির উল্লেখ করে দাবি করেন, অসমীয় শব্দের অর্থ যাদের মাতৃভাষা অসমিয়া বা যারা অসমিয়া ভাষায় কথা বলেন তা হতে পারে না। কারণ রাজ্যের আদি জনজাতিদের সবাই অন্য ভাষাভাষী। প্রশ্ন উঠেছে, এনআরসিতে নাম বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা মাত্র ৬ শতাংশ। তাদেরও সবাই তথাকথিত বহিরাগত নন। তাহলে ৬ শতাংশেরও কম সংখ্যক মানুষ কিভাবে আসামের ভাষা ও সংস্কৃতির পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে? আসামের বড়ো, ডিমাসা, মিসিং, রাভা, টিওয়ারা কিন্তু নিজেদের সংস্কৃতি অক্ষুণœই রেখেছে। তাদের দাবি, আসাম চুক্তি অনুযায়ী, অসমিয়ার সংজ্ঞা জাতি বা ভাষাভিত্তিক হওয়া উচিত নয়। কারণ অসমিয়া জাতি বলে কিছুই কোনো দিন ছিল না।

এদিকে, নাম বাদ পড়ার কারণ দর্শানো ‘স্পিকিং অর্ডার’ এনআরসিছুটদের হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে নভেম্বর মাস হয়ে যাবে। কেন্দ্র জানিয়েছিল, ১২০ দিনের মধ্যে এনআরসিছুটদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে হবে। কিন্তু এরই মধ্যে ২০ দিন পার হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, নাম বাদ পড়ার কারণ লেখা সার্টিফায়েড কপি দেওয়ার দিন থেকে ১২০ দিনের গণনা শুরু হবে। কিন্তু সব এনআরসি কেন্দ্র থেকে বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখে সেই স্পিকিং অর্ডার তৈরিতে অনেক সময় লাগবে। এনআরসি কোঅর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা সব জেলার রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন রেজিস্ট্রেশনকে যে নির্দেশ পাঠিয়েছেন তাতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে চূড়ান্ত এনআরসির সঙ্গে স্পিকিং অর্ডার মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হবে। তা স্ক্যান করার কাজ শুরু হবে পুজোর পরে ১১ অক্টোবর থেকে। বিবৃতি ও অতিরিক্ত নথিপত্র স্ক্যান করার কাজ চলবে ২৫ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। অন্যদিকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ দাবি করেছেন, চূড়ান্ত এনআরসিতে অনেক ভারতীয়ের নাম বাদ পড়েছে। তার মতে, তালিকায় নাম না থাকা ১৯ লাখের মধ্যে সর্বাধিক ১০ লাখ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হতে পারেন। এত দিন ৫০ লাখ পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারী বা বাংলাদেশি আসামে রয়েছে বলে শোরগোল তৈরি করা হচ্ছিল। তরুণ গগৈর চ্যালেঞ্জ, বিজেপি সরকার ১০ লাখের বেশি একজনকেও বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। নাম বাদ পড়া ১৯ লাখ মানুষের তথ্য ও নথি ফের যাচাইয়ের দাবি তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ।

 

"